ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই অস্ট্রেলিয়া দলে বড় পরিবর্তন। সিরিজের মাঝপথেই বাদ দেওয়া হলো ওপেনিং ব্যাটার জেক ওয়েদারাল্ডকে। বলা যায়, প্রথম ম্যাচে হারের পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে, সেই পথ খুঁজতে মরিয়া হয়ে পড়েছে অজিরা। তার জায়গায় দলে ফিরেছেন ম্যাট রেনশ। আর এই সিদ্ধান্তকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার ব্রেন্ডন জুলিয়ান দেখছেন রেনশর টেস্ট ক্যারিয়ারের ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে। একই সঙ্গে ওয়েদারাল্ডের বাদ পড়ায় চাপ আরও বেড়েছে মার্নাস লাবুশেনের ওপরও।
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে হারের পরই নির্বাচকদের এই বড় সিদ্ধান্ত। দুই ইনিংসে ওয়েদারাল্ডের ব্যাট থেকে এসেছে ২৩ ও শূন্য রান। ঘরের মাঠে ফিরে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় দ্বিতীয় টেস্টের আগেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ওয়েদারাল্ডের জায়গায় সুযোগ পাওয়া ৩০ বছর বয়সি রেনশ গত মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৪৯.৯ গড়ে তিনটি সেঞ্চুরি করে লিগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের একজন ছিলেন তিনি। এবার মেকাইয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেন করার সম্ভাবনা তার।
তবে রেনশর জন্য এটি কেবল আরেকটি সুযোগ নয় বরং ক্যারিয়ার বাঁচানোর শেষ বড় পরীক্ষা বলেই মনে করছেন জুলিয়ান, ‘এটা তার (রেনশ) জন্য একটা সুযোগ এবং এটাই শেষ সুযোগ। এর আগেও সে এমন সুযোগ পেয়েছে। নির্বাচকরা হয়তো হতাশ হবেন যে, তাকে কয়েকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সে সেটাকে কাজে লাগিয়ে জায়গাটা পাকা করতে পারেনি।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ক্রিকেটার মনে করেন, রেনশকে এবার অন্তত কয়েকটি টেস্টে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ বারবার একজন ক্রিকেটারকে দলে এনে আবার বাদ দিলে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। ‘আমি মনে করি, সে অন্তত চারটি টেস্ট খেলার সুযোগ পাবে, ঘরের গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার আগে। তাকে জায়গাটা পাকাপোক্ত করার সুযোগ দিতে হবে। কাউকে শুধু একটি টেস্টের জন্য ফিরিয়ে আনা যায় না। তাহলে পরের সিদ্ধান্ত কী হবে?’ বলেন জুলিয়ান।
রেনশর জন্য সেই সুযোগের শুরু মেকাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে। এরপর অক্টোবরেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজ। তাই জুলিয়ানের মতে, বড় পরীক্ষার আগে রেনশকে অন্তত একটি টেস্টে দেখে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা যৌক্তিক।
আর ওয়েদারাল্ডকে এত দ্রুত বাদ দেওয়াটাই জুলিয়ানের কাছে সবচেয়ে বড় বিস্ময়। কারণ ডারউইনের হারের মাত্র এক দিন আগেও অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড বলেছিলেন, পরিবর্তন আনা সহজ পথ হলেও একটি টেস্টের পরই হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
‘আমি খুবই অবাক হয়েছি। অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, অবশ্যই তার রান দরকার, অবশ্যই সে চাপে আছে। কিন্তু আমরা একটি টেস্টের ওপর ভিত্তি করে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আমি ভেবেছিলাম, তারা তাকে দুই টেস্টই খেলাবে,’ বলেন জুলিয়ান।
এরপর বিস্ময়টা আরও স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘আমার সময়ে গ্রীষ্মের শুরুতে, যদিও এবার শীতকাল, প্রথম টেস্টের পরই কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দিতে দেখিনি। আমি এমনটা আগে কখনো দেখিনি।’
তবে ওয়েদারাল্ডের বিদায়ের চেয়েও অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চিন্তার জায়গা হতে পারে লাবুশেন। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১ রান করেন তিনি। কিন্তু তাতেও তিন বছরের সেঞ্চুরি খরা কাটেনি। তবে সব ছাপিয়ে এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে একটাই লক্ষ্য, মেকাইয়ে সিরিজে সমতা ফেরানো। শনিবার শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে হার এড়াতে হবে তাদের, না হলে বাংলাদেশের কাছে ১-০ সিরিজ হার হবে আরেকটি বড় ধাক্কা।
তবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনার উইকেটও অস্ট্রেলিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন জুলিয়ান। তার মতে, উইকেট যদি খুব ফ্ল্যাট হয়, তাহলে ফল বের করতে দুই দলকেই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ‘শোনা যাচ্ছে উইকেটটা বেশ ফ্ল্যাট। অস্ট্রেলিয়াকে নিশ্চিত করতে হবে, উইকেটে যেন সবার জন্য কিছু থাকে, যাতে ম্যাচে ফল আসে। তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে হার তাই শুধু একটি টেস্টের ফল নয়, অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের সামনে একসঙ্গে একাধিক প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। ওপেনিংয়ে রেনশ কি শেষ পর্যন্ত জায়গা ধরে রাখতে পারবেন? লাবুশেন কি নিজের জায়গা বাঁচাতে পারবেন? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ডারউইনের ধাক্কা সামলে মেকাইয়ে অস্ট্রেলিয়া ফিরতে পারবে তো?
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি