ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর যোগ্যতা নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগের পর এবার চাকরি হারালেন ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর। ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনার প্রকাশ্য সমালোচনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১৭ আগস্ট ফিফার সঙ্গে তার কর্মসম্পর্কের অবসান হয়েছে।
ফেয়ারস্কয়ার ফিফার গভর্ন্যান্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে ইনফান্তিনোকে পরবর্তী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির যুক্তি, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একজন সভাপতি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ইনফান্তিনো অবশ্য ২০২২ সালে ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন পেয়েছিলেন যে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ব্ল্যাটারের অসমাপ্ত মেয়াদ পূরণের সময়কে তার প্রথম পূর্ণ মেয়াদ হিসেবে ধরা হবে না।
এদিকে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে কেভিন লামুরের বিদায়। ফিফার এই শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক প্রকল্পের সমালোচনা করেছিলেন। ওই পরিকল্পনার মাধ্যমে ফিফার বিশ্বকাপসহ বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।
লামুর প্রকাশ্যে বলেছিলেন, প্রকল্পটি ছিল ‘একজন মানুষের প্রকল্প’ এবং এর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। তিনি এমনও জানিয়েছিলেন, নিজের অবস্থানের কারণে চাকরি হারাতে হলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। এরপরই তার ফিফা ছাড়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ফিফা অবশ্য লামুরের বিদায়ের নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। সংস্থাটি শুধু জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট তার সঙ্গে ফিফার কর্মসম্পর্ক শেষ হয়েছে এবং দুই বছরের সেবার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তবে তার সমালোচনার পরপরই বিদায় হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে এরই মধ্যে ইউয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে, আগামী ফিফা নির্বাচনে তারা ইনফান্তিনোকে সমর্থন করবে না।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি