লক্ষ্য ছিল ১৮৩ রান। প্রতিপক্ষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। দলে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটার অভিষেক শর্মা, সঙ্গে সাঞ্জু স্যামসন, ইশান কিশান ও শ্রেয়াস আইয়ারের মতো তারকারা। কাগজে-কলমে ভারতের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের সম্ভাবনা ছিল খুবই কম।
কারণ, এর আগে দুই দলের ১১ দেখায় একবারও ভারতকে হারাতে পারেনি আইরিশরা। তার ওপর দলের প্রথম সারির ছয় ক্রিকেটারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয়েছে তাদের। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে ইতিহাস গড়ল আয়ারল্যান্ড। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারাল তারা।
বেলফাস্টে বৃহস্পতিবার ৩৪ রানের দাপুটে জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৮২ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। জবাবে ভারত গুটিয়ে যায় ১৪৮ রানে, তখনও ইনিংসের সাত বল বাকি ছিল।
ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি আয়ারল্যান্ডের। মাত্র ৫১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। সেখান থেকে লর্কান টাকারের ৫০ এবং গ্যারেথ ডেলানির ৪৯ রানের ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় আইরিশরা।
ভারতের হয়ে হার্শিত রানা নেন তিন উইকেট। দুটি করে উইকেট শিকার করেন আর্শদীপ সিং ও অক্ষর প্যাটেল।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। আয়ারল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। অভিষেক শর্মা ছাড়া ভারতের আর কোনো ব্যাটার ২৫ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন অভিষেক।
বোলিংয়ে আয়ারল্যান্ডের জয়ের নায়ক ম্যাথু হওয়ার্ড ও ম্যাথু হাম্ফ্রেস। দুজন মিলে ভাগাভাগি করে নেন ছয় উইকেট। অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচসেরাও হন হওয়ার্ড।
এই হারের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়াস আইয়ারের যাত্রা শুরু হলো পরাজয় দিয়ে। অন্যদিকে, শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে আয়ারল্যান্ড লিখল নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়।
সময়ের আলো/কেএইচও