চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যেই বড় যুদ্ধবন্দি বিনিময় সম্পন্ন করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। দুই দেশের বোঝাপড়ার ভিত্তিতে শুক্রবার (২৬ জুন) উভয় পক্ষ ১৬০ জন করে মোট ৩২০ জন যুদ্ধবন্দিকে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মুক্ত হওয়া রুশ সেনাসদস্যদের বর্তমানে প্রতিবেশী বেলারুশে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লানত্রাতোভা তত্ত্বাবধান করছেন। বন্দি বিনিময়ের পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বন্দিমুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাশিয়ার বন্দিদশা থেকে আরও ১৬০ জন ইউক্রেনীয় সেনাসদস্য নিজ দেশে ফিরেছেন। তাদের সবাই ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে রুশ বাহিনীর হাতে বন্দি হন।
পরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া নিয়মিত সন্ধ্যার ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৫০০-এর বেশি ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দি রাশিয়ার কবল থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরেই মুক্তি পেয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকলেও মানবিক কারণে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের উদ্যোগ দুই দেশই নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও এ ধরনের বন্দি বিনিময় উভয় পক্ষের মধ্যে মানবিক যোগাযোগ বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সময়ের আলো/এসএকে