নরসিংদীতে একটি কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া এবং লালমনিরহাটে ছাগলের ওজন কৃত্রিমভাবে বাড়াতে জোর করে নল দিয়ে পানি খাওয়ানোর দুটি ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (পিএমও) সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। বিষয়গুলো জেনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও আহত হয়েছেন।
সূত্র জানায়, এ ধরনের পশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান হবে ‘জিরো টলারেন্স’।
তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যদি মনুষ্যত্ব হারিয়ে যায়, তাহলে মানুষ আর পশুর মধ্যে তফাৎ কী?’
তিনি আরও বলেন, একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে শুধু মানুষের প্রতিই নয়, পশু-পাখিসহ সব প্রাণীর প্রতিও সহমর্মী ও মানবিক হতে হবে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরে প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দি সেতু থেকে একটি কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মোহাম্মদ আলী (২৫) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, লালমনিরহাটে পশুর ওজন কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ক্রেতাদের প্রতারণার উদ্দেশ্যে ছাগলকে জোরপূর্বক নল দিয়ে পানি খাওয়ানোর ঘটনায় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।