রামমন্দিরে লুটকাণ্ডে মুখোমুখি মোদি-যোগী সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অধীনে নির্মিত রামমন্দিরের দানসামগ্রী ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ক্রমেই বড় আকার ধারণ

2026-06-28T04:46:28+00:00
2026-06-28T04:46:28+00:00
 
  রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬,
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
রামমন্দিরে লুটকাণ্ডে মুখোমুখি মোদি-যোগী সরকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৪:৪৬ এএম 
রামমন্দিরে লুটকাণ্ডে মুখোমুখি মোদি-যোগী সরকার। সংগৃহীত ছবি
ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অধীনে নির্মিত রামমন্দিরের দানসামগ্রী ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ক্রমেই বড় আকার ধারণ করছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের পরই পুলিশ গত শুক্রবার ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বাড়ি ও অন্যান্য স্থানে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করা হয়েছে। 

এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই মন্দির অছি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই ও পরিষদ সদস্য অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। দানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। 

কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থিরা একযোগে দাবি তুলেছেন, রাজ্য সরকারের তদন্তে বড় অপরাধীরা রক্ষা পাবেন। শুধু নিচু পর্যায়ের কর্মীরাই ধরা পড়বেন। তাই তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি তদারকিতে নিরপেক্ষ তদন্ত চালাতে হবে।

তবে এই ঘটনা শুধু বিরোধীদের আক্রমণের লক্ষ্য নয়, বিজেপির অভ্যন্তরেই শুরু হয়েছে মারাত্মক টানাপোড়েন। আগামী বছর উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। বিরোধীরা এই কাণ্ডকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালালেও যোগী শিবিরের নেতারা পুরো দায় কেবল রাজ্য সরকারের ওপর চাপিয়ে দিতে রাজি নন। তারা পাল্টা কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের দিকে আঙুল তুলছেন।

তাদের স্পষ্ট যুক্তি মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার সিদ্ধান্তগুলো মূলত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগেই ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়। ট্রাস্টের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১২ জনকেই মনোনীত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। 

এমনকি ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য ও নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন মোদির অত্যন্ত আস্থাভাজন সাবেক মুখ্যসচিব নৃপেন্দ্র মিশ্র। ফলে এই দুর্নীতির দায় কেবল রাজ্য সরকারের নয়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এড়াতে পারবেন না বলে দাবি করছেন যোগী অনুগামীরা।

মন্দিরে দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তের দেওয়া দানের পরিমাণ নিয়েই শুরু হয় বিভ্রান্তি। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী কয়েকশ কোটি রুপি ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপার গহনা ও সামগ্রী আত্মসাৎ হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ আরও বড়। তাদের মতে, প্রকৃতপক্ষে কয়েক হাজার কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

যদিও এই পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না কারণ, শুরু থেকেই দানের অর্থ ও সামগ্রীর কোনো সঠিক হিসাব রাখা হয়নি। কোনো নিয়মতান্ত্রিক নথি ব্যবস্থা ছিল না। কে কত টাকা বা কত মূল্যবান সামগ্রী দিচ্ছেন, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়নি। একটি নিরীক্ষক সংস্থার প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ট্রাস্টের কাজকর্ম ছিল অত্যন্ত অপেশাদার এবং হিসাবপত্র ছিল একেবারেই অস্পষ্ট।


এসআইটির তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিদিন দানসামগ্রী গোনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হতো বা এমনভাবে আড়াল করা হতো যাতে কোনো কিছু রেকর্ড না হয়। চুরি করা অর্থ ও গহনা লুকিয়ে রাখা হতো মন্দিরের শৌচাগারে। দৈনিক লাখ লাখ টাকা জমা পড়লেও হিসাবে দেখানো হতো দানের পরিমাণ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই অর্থের অংশ দিয়ে কেউ উত্তরাখণ্ডে অবকাশকেন্দ্র তৈরি করেছেন, কেউ শপিং মল খুলে ব্যবসা শুরু করেছেন।

এদিকে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন দানসামগ্রী গোনা ও সংরক্ষণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মী। কিন্তু বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, এই কাজ কি শীর্ষস্থানীয়দের অজান্তেই চলছিল? তাদের প্রশ্ন, চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা বা গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? 

জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক বা অনিল মিশ্রের নিকটাত্মীয়। এমনকি তাদের পদত্যাগের পরও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের করেনি। বিরোধীদের অভিযোগ, শীর্ষস্থানীয়দের আড়াল করার জন্যই শুধু নিচু পর্যায়ের কর্মীদের ধরা হচ্ছে।

কংগ্রেস নেতা রাজিব শুক্লা বলেছেন, কোনো নেতার আশীর্বাদ ছাড়া এভাবে কোটি কোটি টাকা চুরি করা সম্ভব নয়। এখানে পুরো ব্যবস্থাই জড়িত। আরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কেন এই বিষয়ে এত নীরব? কেন চোরদের ধরতে দেরি হচ্ছে? 

এই ঘটনার সঙ্গে পুরোনো অভিযোগও নতুন করে সামনে আসছে। ২০২১ সালে মন্দির নির্মাণের জন্য জমি কেনার সময়ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই কোটি টাকায় কেনা জমি বিক্রি করা হয়েছিল ২০ কোটি টাকায়। সেই লেনদেনের সঙ্গেও চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের নাম যুক্ত ছিল।

সময়ের আলো/জেডি 






  বিষয়:   রামমন্দির  লুটকাণ্ড  মুখোমুখি  মোদি-যোগী  ভারত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: