বিশ্ব ফুটবলে লিওনেল মেসির অসাধারণত্ব নিয়ে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক তরুণ গণিতবিদ। তার দাবি, পরিসংখ্যান ও সম্ভাব্যতার হিসাব অনুযায়ী মেসির মতো আরেকজন ফুটবলার দেখতে মানবজাতিকে অপেক্ষা করতে হতে পারে প্রায় চার লাখ বছর।
৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ওঠার পর এবার তার ফুটবল প্রতিভা বিশ্লেষণ করা হয়েছে গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে।
বিজ্ঞানভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা ও গণিতের শিক্ষার্থী হাভিয়ের গিরোনজা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে প্রতি ৯০ মিনিটে গোল ও অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মেসি সাধারণ মানের অনেক বাইরে অবস্থান করছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলারদের পারফরম্যান্স সাধারণত একটি ‘বেল কার্ভ’ অনুসরণ করে। যেখানে অধিকাংশ খেলোয়াড় গড় মানের কাছাকাছি থাকেন। কিন্তু মেসির অবস্থান সেই গড় থেকে ছয়টি স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন দূরে, যা পরিসংখ্যানের ভাষায় অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
গিরোনজার দাবি, এই সম্ভাবনা অনুযায়ী প্রায় ৫৭ কোটি এলিট ফুটবলারের মধ্যে মাত্র একজনের পারফরম্যান্স মেসির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আর ১৯৫০-এর দশক থেকে ইউরোপের পাঁচ শীর্ষ লিগে খেলেছেন প্রায় ৬০ হাজার ফুটবলার। সেই হিসাব ধরলে মেসির মতো আরেকজন ফুটবলার দেখতে প্রায় চার লাখ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন
তবে এই বিশ্লেষণ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, একই পরিসংখ্যানে গোলরক্ষক, ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ডদের একসঙ্গে মূল্যায়ন করায় ফলাফল পুরোপুরি নির্ভুল নয়। কারণ সব পজিশনের খেলোয়াড়ের দায়িত্ব এক নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, মেসির আসল শক্তি শুধু গোল বা অ্যাসিস্টে সীমাবদ্ধ নয়; খেলা পড়ার ক্ষমতা, ফাঁকা জায়গা তৈরি, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার দক্ষতাই তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে।
ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও মেসির অসাধারণ ধারাবাহিকতার সাক্ষ্য দেয়। এখন পর্যন্ত ১,১৫৯টি অফিসিয়াল ম্যাচে তিনি করেছেন ৯১৭ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪১৪টি গোল। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে একের বেশি গোল অবদান রয়েছে তার।
বর্তমানে তিনি ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি বিরল মাইলফলকের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন। ক্যারিয়ারে ১,০০০ অফিসিয়াল গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আরও ৮৩টি গোল। এ দৌড়ে তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৭৫।
তবে সব পরিসংখ্যানে মেসি সেরা নন। গিরোনজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেনাল্টি থেকে গোল করার ক্ষেত্রে তিনি নিজের সামগ্রিক মানের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। ক্যারিয়ারে ১৬১টি পেনাল্টির মধ্যে ১২৫টিতে সফল হয়েছেন মেসি, সফলতার হার প্রায় ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে রোনালদো ২৩১টি পেনাল্টির মধ্যে ১৯৩টিতে গোল করে প্রায় ৮৩.৫৫ শতাংশ সফলতা পেয়েছেন।
যদিও পেনাল্টির পরিসংখ্যান নিয়ে গিরোনজার ব্যাখ্যা, এটি কেবল শট নেওয়ার দক্ষতার বিষয় নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানসিক চাপ এবং গেম থিওরির মতো জটিল উপাদানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব নিয়ে তিনি ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
এএডি/