চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৩ জন শ্রমিক নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার অধিকাংশই ঘটেছে গার্ডার বা ভারী বস্তু পড়ে যাওয়া, ক্রেন-হুক-ওয়্যার সংক্রান্ত দুর্ঘটনা এবং গ্যাস বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে সীতাকুণ্ডের ইপসা এইচআরডি সেন্টারে আয়োজিত এক সভায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) তাদের ‘জাহাজভাঙা শিল্প সেক্টরে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন অর্ধবার্ষিক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন’ প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিলস চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টু। এতে জানানো হয়, ২৮টি দুর্ঘটনার মধ্যে ২১টি দিনের বেলায় এবং ৭টি রাতের বেলায় ঘটেছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন কাটারম্যান, কাটার হেলপার, ক্রেন হেলপার, ওয়্যার গ্রুপ, ফিটারম্যান ও লোডিং গ্রুপের শ্রমিকরা।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে অনিরাপদ আচরণ, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহারের অভাব, তদারকির ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হংকং কনভেনশন, আইএলও গাইডলাইনস ও বেসেল কনভেনশন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য পিপিই বাধ্যতামূলক ব্যবহার, গ্যাস টেস্ট, পারমিট টু ওয়ার্ক (পিটিডব্লিউ), নিরাপদ ক্রেন পরিচালনা, নিয়মিত টুলবক্স মিটিং এবং জরুরি মহড়াসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জাহাজভাঙা শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে শিল্পটির টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও জীবনমান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বলেন, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনাই প্রতিরোধযোগ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শ্রমিকের অধিকার এবং শিল্পের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম শর্ত।
সময়ের আলো/আতা