মাঠে তখন টানটান উত্তেজনা। রেফারির দেওয়া নির্ধারিত ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইমের খেলা চলছে। ঠিক এমন এক মুহূর্তে গিমারাইজের বাড়ানো বল ধরে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি নিলেন এক কোনাকুনি শট, যা পোস্টে লেগে আছড়ে পড়ল জাপানের জালে! মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ল সেলেসাও শিবির। তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতে বাজতে ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে ফেলল যোগ করা সময়ের ১১তম মিনিট। অবশেষে রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল ব্রাজিল। জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নাটকীয় এক জয়ের রূপকথা লিখে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল কার্লো আনচেলত্তির দল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। প্রথমার্ধেই নিজেদের ভুলে কপাল পোড়ে ব্রাজিলের। নিজেদের অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিফেন্ডাররা যখন খেই হারিয়ে ফেলেন, ঠিক তখনই বল পেয়ে যান কাইশু সানো। তাঁকে বাধা দেওয়ার মতো কেউ ছিল না ব্রাজিলের রক্ষণভাগে। মাঠের প্রায় অর্ধেকটা পথ একাই দৌড়ে এসে বিনা বাধায় দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান তিনি। জাপানের জার্সি গায়ে এটিই সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল, আর তা উদযাপন করার জন্য এর চেয়ে বড় মঞ্চ আর কী-ই বা হতে পারত! এই গোলের ধাক্কায় পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য এক ব্রাজিলকে দেখল ফুটবল বিশ্ব। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে একের পর এক আক্রমণে জাপানের রক্ষণভাগকে নাচিয়ে তোলে সেলেসাওরা। তবে পরপর দুবার গোললাইন থেকে বেঁচে ফিরেছিল জাপান। কিন্তু তৃতীয়বারে আর শেষ রক্ষা হয়নি এশিয়ান পরাশক্তিদের। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের চমৎকার এক ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে চোখ ধাঁধানো এক হেডে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো।
সমতায় ফেরার পর লিড নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। জয়ের দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গিয়েছিল তারা, কিন্তু ভিনিসিয়ুসের একটি নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা অসাধারণ দক্ষতায় নসাৎ করে দেন জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি। যেন পোস্টের নিচে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
এদিকে গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের চোখ ছিল সাইডবেঞ্চের দিকে। গত ম্যাচে ৭৫তম মিনিটে মাঠে নামা নেইমারকে আজ হয়তো আরও আগে দেখা যাবে-এমনটাই আশা করেছিলেন ভক্তরা। তবে কোচ কার্লো আনচেলত্তি ৯০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আজ নেইমারকে মাঠে নামাননি।
ম্যাচ যখন ১-১ সমতায় শেষের দিকে, তখনই আসে সেই রোমাঞ্চকর ক্ষণ। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে মার্তিনেল্লির ওই জাদুকরী গোল ব্রাজিলকে উৎসবে ভাসায়। এরপর আরও মিনিটখানেকের অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তায় ঠাসা যোগ করা সময়ের ১১তম মিনিটে ম্যাচ শেষের ঘোষণা আসে। মাঠ ছাড়ার সময় ব্রাজিলের ফুটবলারদের মুখে তখন ইতিহাস গড়ার হাসি, আর জাপানি শিবিরে শুধুই বুকভাঙা হতাশা।
সময়ের আলো/আরবিএন