ভাগ্য বদলাতে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মো. হোসাইন (৪২)। কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তার জীবনের প্রদীপ। ওমানের নিজুয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন।
গত রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হোসাইন কমলনগর উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বেরকা জামে মসজিদ এলাকার নুরুজ্জামান সিকদারের ছেলে। তিনি সাবেক চর জগবন্ধু এলাকার গণি সিকদার বাড়ির বাসিন্দা। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রায় এক বছর আগে পরিবারের অভাব-অনটন দূর করে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ওমানে যান হোসাইন। সেখানে তিনি একটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় অন্য তিন বাংলাদেশি সহকর্মীকে নিয়ে কোম্পানির গাড়িতে করে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথিমধ্যে নিজুয়া এলাকার মহাসড়কে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী গাড়ির সঙ্গে তাদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই হোসাইনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ওমান পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। দুর্ঘটনায় আহত অন্য তিন বাংলাদেশিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
নিহতের ভাগনে মো. রায়হান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জীবিকার তাগিদে এক বছর আগে পরিবারের স্বপ্ন পূরণে ওমানে গিয়েছিলেন মামা। এক দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। ওনার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়াসহ দুটি সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। পুরো পরিবারটি এখন একেবারে নিরুপায় হয়ে পড়েছে।
নিহত হোসাইনের স্বজনরা দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এই বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, প্রবাসী মো. হোসাইনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারি বিধি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
সময়ের আলো/জোই