সদ্য বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিতর্কিত ও ‘লজ্জাজনক’ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে শিক্ষা নিয়ে যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সম্পূর্ণ ভিন্ন নীতি অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদায়ী লেবার পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি গণহত্যায় সরাসরি সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ধ্বংসে ভূমিকা রাখার তীব্র সমালোচনা উঠেছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর কিয়ার স্টারমারের সরকার ইসরাইলে রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স দেয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ১২৭.৬ মিলিয়ন পাউন্ড। পরবর্তীতে জনরোষের মুখে লেবার সরকার আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিলেও, ইসরাইলের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও সাইপ্রাসে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আক্রোতিরি ঘাঁটি থেকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর পক্ষে নিয়মিত নজরদারি ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখে।
রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা দিলেও ইসরাইলের ক্ষেত্রে ব্রিটেনের এই দ্বিমুখী নীতিকে ‘চরম ভণ্ডামি’ ও যুদ্ধাপরাধের স্পষ্ট যোগসাজশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাজ্যের সংসদে গাজা অভিযানে ব্রিটিশ সম্পৃক্ততার বিষয়ে একটি স্বাধীন ও প্রকাশ্য তদন্তের বিল আনা হলেও স্টারমার সরকার তা আটকে দেয়। এর জবাবে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণ-আদালত বা বিচারসভায় সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, ব্রিটিশ সরকার যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যায় জড়িত।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে চিঠি দিয়ে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ও ম্যানচেস্টারের প্রাক্তন মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, স্টারমারের ভুল পথ পরিহার করে ব্রিটেনের উচিত ইসরাইলের কাছে সমস্ত অস্ত্র বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করা এবং দেশটির ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। একই সাথে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো কঠোর দমনপীড়ন ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টারমার যখন দেশের ভেতরের দারিদ্র্য, গৃহহীনতা ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবাকে উপেক্ষা করে সামরিক ব্যয় বাড়াতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন নতুন নেতৃত্বের উচিত সেই যুদ্ধমুখী নীতি থেকে সরে আসা। বোমা ও গুলির পেছনে অর্থ অপচয় না করে, সেই রাজস্ব যুক্তরাজ্যের স্কুল, জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা, জনকল্যাণমূলক ভাতা এবং সম্পদ কর ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণের মতো জনবান্ধব খাতে পুনর্বণ্টন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সাথে কিয়ার স্টারমারের আমলের অপরাধগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই কেবল যুক্তরাজ্য প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/জেডি