ইউরোপজুড়ে রেকর্ডভাঙা দাবদাহে বাড়ছে প্রাণহানি। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চাপের মুখে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিজ্ঞানীরা।
ইউরোপজুড়ে ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ এখন রূপ নিয়েছে জনস্বাস্থ্য সংকটে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুক্রবার, মাত্র তিন দিনে ১ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনের মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনে, যেখানে এপ্রিল ও মে মাসে গড়ে প্রতিদিন মৃত্যু ছিল ৯০০ থেকে ১ হাজার।
বিশেষ করে প্যারিস অঞ্চলের ইল-দ্য-ফ্রান্স, ব্রিটানি ও নরম্যান্ডিতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোমের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জার্মানিতেও টানা তৃতীয় দিনের মতো ভেঙেছে জাতীয় তাপমাত্রার রেকর্ড। ব্রান্ডেনবুর্গে তাপমাত্রার পারদ উঠেছে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্যাক্সনিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে রেললাইনের জোড়া প্রসারিত হয়ে যাওয়ায় লাইপজিগে ট্রাম চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছে। একইসঙ্গে হ্রদ ও নদীতে গোসল করতে গিয়ে কয়েকদিনে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিছুটা স্বস্তির আশায় মানুষ ছুটছে ফোয়ারা, ক্যাফে কিংবা লেকের ধারে। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টেও ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমে অস্থায়ী কুলিং স্টেশন ও পানির স্প্রে ব্যবহার করছেন বাসিন্দারা।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। অন্যদিকে, ইতালির রাজধানী রোমসহ ২২টি শহরে সর্বোচ্চ 'রেড হিট অ্যালার্ট' জারি থাকলেও ভ্যাটিকানে সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে পোপের প্রার্থনায় অংশ নেন হাজারো ক্যাথলিক। তারা ছাতা, টুপি ও হাতপাখার সাহায্যে তীব্র গরম মোকাবিলা করেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এমন তাপপ্রবাহ প্রায় অসম্ভব।
বিজ্ঞানীদের মতে, চলতি তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি। এই তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে এবং হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই গতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এমন তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
সময়ের আলো/মহু