ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের তথ্য বহির্বিশ্বের কাছে সীমিত আকারে পৌঁছাতে দিচ্ছে। দ্যা প্ল্যাটফরমিসাইড অব প্যালেস্টাইন (The Platformicide of Palestine) শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এমনটা তথ্য উঠে এসেছে।
পাঁচ বছর ধরে ঘটে যাওয়া হাজার হাজার কথিত ডিজিটাল অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি এই দাবি করেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে প্যালেস্টাইন ক্রনিকলস।
প্রতিবেদনটি ফিলিস্তিনি ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ‘হামলেহ’ (7amleh) এবং ইউট্রেক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের (Utrecht University) এর একজন গবেষক যৌথভাবে তৈরি করেছেন। এতে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্যালেস্টানিয়ান অবজারভেটরি ফর ডিজিটাল রাইটস ভায়োল্যাশনে (Palestinian Observatory for Digital Rights Violations) এ জমা পড়া তিন হাজার ৫২০টি ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা, পোস্ট সরিয়ে দেওয়া, লাইভস্ট্রিমিংয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা এবং ফিলিস্তিনি কনটেন্টের প্রচার, দৃশ্যমানতা ও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর মাত্রা কমিয়ে দেওয়া।
এই ঘটনা বর্ণনা করতে গবেষকেরা প্ল্যাটফরমিসাইড (platformicide) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে তারা প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ফিলিস্তিনিদের অনলাইন উপস্থিতি ও অংশগ্রহণকে কাঠামোগতভাবে হ্রাস করার বিষয়টিকে বোঝাতে চেয়েছেন।
এদিকে, গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাজায় একজন নিহত ও সাতজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও তা মানছে না ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ২৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও চার হাজার ১৫৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপ ও অন্যান্য স্থান থেকে ৮০৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ৭৩ হাজার ৩৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৪ হাজার ২৬৬ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে আটকে রয়েছেন। ইসরায়েলি হামলা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার করতে পারছে না।
সময়ের আলো/আআ