মব সহিংসতায় আহতের সংখ্যা বেড়েছে ৭৭ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মব সহিংসতা। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার

2026-06-30T21:21:17+00:00
2026-06-30T21:21:17+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
জাতীয়
মব সহিংসতায় আহতের সংখ্যা বেড়েছে ৭৭ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:২১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মব সহিংসতা। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংস্থাটির দাবি, চোর সন্দেহ, ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গুজব কিংবা ভুল-বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ জনতার হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। এসব ঘটনায় শুধু অভিযুক্ত নন, নিরপরাধ মানুষও নিহত ও আহত হচ্ছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এমএসএফের জুন মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে দেশে অন্তত ৭৮টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৩ জন নিহত এবং ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মে মাসে মব সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ এবং আহত হন ৭১ জন। সে হিসাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মব সহিংসতার শিকারদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, পথচারী এবং বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই জনতা হামলা চালিয়েছে। কোথাও বাসাবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে, যা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

এমএসএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা ৫৭ শতাংশ বেড়েছে এবং নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে অজ্ঞাত ও নামীয় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও বেড়েছে ২২ শতাংশ। সংস্থাটির মতে, এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি অপরাধ তদন্তের দুর্বলতা ও নাগরিক নিরাপত্তাহীনতার প্রতিফলন।

প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কিছু এলাকায় সীমান্তে নিহতের সংখ্যা কমলেও পুশইনের চেষ্টা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির অপহরণ তৎপরতা এবং সীমান্তে সহিংসতার ঘটনাও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।


সব মিলিয়ে এমএসএফের মূল্যায়ন, জুন মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বহুমাত্রিক অবনতি হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, মব, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সীমান্ত সংকট দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩ জন, ময়মনসিংহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে বিএনপির একজন, যশোরে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে একজন, নাটোরে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে একজন এবং গাইবান্ধায় বিএনপি-শিবির সংঘর্ষে এক শিবিরকর্মী নিহত হন। মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩।

এ ছাড়া জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৩০৩ জন। আহতদের মধ্যে বিএনপির ২০৩ জন, আওয়ামী লীগের ৩৩ জন, জামায়াতের ৫২ জন এবং এনসিপির ১৫ জন। মে মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৯৩।

এ মাসে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জন বিএনপির নেতা-কর্মী। নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গুলি করে এবং দুজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৬৫টি নামীয় ও অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ২ কিশোর, ১২ নারী, ৪৭ পুরুষ এবং একজনের বয়স ও লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। মে মাসে এ সংখ্যা ছিল ৫৩।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ মরদেহ নদী, ডোবা, মহাসড়ক ও সড়কের পাশ, সেতুর নিচ, রেললাইনের পাশ, ফসলি জমি এবং পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু মরদেহ গলা কাটা, বস্তাবন্দি, হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় এক বাংলাদেশি বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিয়ানমার সীমান্তে তিন দফায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি নিহত হন। একই সীমান্তে আরাকান আর্মির গুলিতে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ভারত সীমান্ত দিয়ে ৭ বাংলাদেশিকে পুশইন করা হয়েছে এবং আরও ৪২৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এমএসএফ। সংস্থাটির দাবি, এসব ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে বগুড়া, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহে প্রতিমা ভাঙচুরের ৫টি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সুনামগঞ্জে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কক্সবাজারের জুমপাড়ায় পরিচয়বিহীন একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া চাঁদপুরে এক নারী পীরের আস্তানায় স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় উপস্থিত নারীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   মব সহিংসতা  এমএসএফ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: