মানব শরীরকে যেভাবে বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

আমাদের হাতের মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার এই যন্ত্রগুলো আমাদের জীবনকে সহজ করে দিলেও ধীরে ধীরে শরীরের গঠন ও কার্যকারিতায়

2026-07-02T03:47:55+00:00
2026-07-02T03:47:55+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মানব শরীরকে যেভাবে বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৭ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
আমাদের হাতের মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার এই যন্ত্রগুলো আমাদের জীবনকে সহজ করে দিলেও ধীরে ধীরে শরীরের গঠন ও কার্যকারিতায় গভীর প্রভাব ফেলছে। আর এটি আমরা প্রায়শই মাথায় আনি না। শুধু মানসিক স্বাস্থ্য নয়, দীর্ঘক্ষণ পর্দার সামনে থাকার অভ্যাস শারীরিক গঠন, দৃষ্টিশক্তি, পেশির শক্তি এমনকি ত্বকের স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করছে। তবে সুসংবাদ হলো এই ক্ষতি প্রতিরোধ বা কমানোর জন্য এখনও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে।

দৃষ্টিশক্তির ওপর অপ্রত্যক্ষ কিন্তু বাস্তব প্রভাব : গত কয়েক দশকে মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টি সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। সাধারণ ধারণা হলো কাছ থেকে স্ক্রিন দেখার কারণেই এমনটা ঘটছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির চক্ষুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডোনাল্ড মুট্টি বলছেন, বিষয়টি এতটা সরাসরি নয়।

তার ২০ বছরব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু কাছের জিনিসের দিকে তাকানো দৃষ্টি সমস্যার মূল কারণ নয়। বরং প্রকৃত কারণ হলো বাইরের আলোতে সময় না কাটানো। তার মতে, সূর্যের উজ্জ্বল আলো চোখের রেটিনা থেকে ডোপামিন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা চোখের স্বাভাবিক গঠন ও বিকাশে সহায়ক।

প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আমরা বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতর কাটাই। এভাবেই যন্ত্রগুলো পরোক্ষভাবে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করছে। ডোনাল্ড মুট্টি বলছেন, তবে এর সমাধানও খুব সহজ। প্রতিদিন নিয়ম করে বাইরে যান, সূর্যালোকে সময় কাটান। শুধু চোখের জন্য নয়, এটি ঘুম ও সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।

টেক নেক বা ঘাড়ের ওপর অস্বাভাবিক চাপ : মোবাইল ব্যবহারের সময় আমরা প্রায়শই মাথা নিচু করে তাকাই। এই অবস্থানটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘ফরওয়ার্ড হেড পোস্টার’। এভাবে মাথা নিচু করলে ঘাড়ের ওপর প্রায় ২৭ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চললে মেরুদণ্ডের ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পেশি ও গাঁটের জয়েন্ট ক্ষয় হয় এবং এমনকি ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও কমে যায়।

এই সমস্যার নামই জনপ্রিয় হয়েছে ‘টেক নেক’। ধীরে ধীরে এটি শরীরের গঠনকেও স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারে। সমাধান হিসেবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে সহজ পদ্ধতি হলো, ফোনটিকে চোখের সমান উচ্চতায় রাখুন, যাতে মাথা নিচু না করতে হয়। প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে বিরতি নিন।

কুঁচকে যাওয়া ও চুলকানির মতো ত্বকের সমস্যা : দীর্ঘদিন একইভাবে ঘাড় ভাঁজ করে রাখার কারণে ত্বক কুঁচকে যেতে পারে কি না এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে। যুক্তরাজ্যের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জাস্টিন হেক্সটল বলছেন, তত্ত্বগতভাবে এটি সম্ভব হলেও এখনও কোনো গবেষণা দিয়ে প্রমাণিত নয়। তাই শুধু ‘টেক নেক’ প্রতিরোধের নামে বাজারে পাওয়া বিশেষ ক্রিম বা প্রসাধনী কেনার প্রয়োজন নেই।

তবে স্মার্টওয়াচ বা ব্রেসলেট সবসময় পরে রাখলে ত্বকের সমস্যা বাস্তবেই দেখা দিতে পারে। ঘড়ির নিচের অংশটি স্যাঁতসেঁতে ও অন্ধকার থাকায় ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে, যার ফলে চুলকানি বা অ্যাকজিমা দেখা দেয়। সমাধান হলো ঘড়িটি মাঝে মাঝে খুলে রাখুন, ত্বক পরিষ্কার রাখুন এবং দীর্ঘক্ষণ পরে রাখলে প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

পেশির শক্তি-দক্ষতা কমছে : হাতের আঁকড়ে ধরার শক্তি এখন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তচাপের তুলনায় এই শক্তি কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ানোর ভালো ইঙ্গিত দেয়। জার্মানির লাউসিৎস মেডিকেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জোহানেস বেলার বলছেন, বসে বসে কম্পিউটার বা ফোন ব্যবহারের অভ্যাস শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে নতুন প্রজন্মের হাত ও পেশির শক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।

এ ছাড়া প্রযুক্তি আমাদের শারীরিক দক্ষতাকেও প্রভাবিত করছে। রেজেনসবার্গ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সেবাস্তিয়ান সুগগেট বলছেন, যদিও স্ক্রল বা ক্লিক করার মতো কাজে আমরা দক্ষ হচ্ছি, কিন্তু সূক্ষ্ম ও বাস্তবসম্মত শারীরিক দক্ষতা ধীরে ধীরে হারাচ্ছি। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও বিপজ্জনক, কারণ শারীরিক দক্ষতার সঙ্গে মেধা ও শিক্ষাগত বিকাশ সরাসরি সম্পর্কিত।

সমাধান হলো শুধু প্রযুক্তি নিষিদ্ধ না করে বরং দৈনন্দিন কাজে হাতকে ব্যবহার করুন। রান্না করা, হাতে লেখালেখি করা, কারুকাজ শেখা বা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখুন। এগুলো মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে সংযোগকে সক্রিয় রাখে।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   মানব  শরীর  প্রযুক্তি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: