কার্যকর বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

সম্পাদকীয়

মতামত

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে

2026-07-02T06:01:44+00:00
2026-07-02T06:01:44+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
মতামত
জুয়া প্রতিরোধ আইন
কার্যকর বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৬:০১ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ পাস হওয়া সময়োপযোগী পদক্ষেপ। প্রায় ১৫৯ বছর আগের ঔপনিবেশিক আইন বাতিল করে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রগতি।
 
সময়ের আলোয় গতকাল বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এমন এক সময়ে ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট-১৮৬৭’ প্রণীত হয়েছিল যখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল ওয়ালেট কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির কোনো অস্তিত্বই ছিল না। বর্তমান বাস্তবতায় আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, লাইভ বেটিং, বিদেশি জুয়া প্ল্যাটফর্মের এজেন্ট, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ঘোস্ট সিম এবং জুয়ার বিজ্ঞাপনকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য করার সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

আইন কঠোর করার পেছনে বাস্তব কারণ রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে অনলাইন জুয়ার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বৈশ্বিক অনলাইন জুয়ার বাজারমূল্য প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। স্মার্টফোন, ডিজিটাল পেমেন্ট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ, ভিপিএন এবং বিদেশনির্ভর ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তরুণদের লক্ষ্য করে জুয়ার প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য অনেক পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর সঙ্গে প্রতারণা, অর্থ পাচার, ঋণগ্রস্ততা, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিরও সম্পর্ক আছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রয়েছে। কঠোর শাস্তি দেওয়া হলেই কি অনলাইন জুয়া বন্ধ হয়ে যাবে? আইন কঠোর হলেও যদি তার প্রয়োগ দুর্বল হয় তা হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে না। অপরাধ শনাক্ত করা, স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বিচার করাও জরুরি। না হয় কঠোর আইন কাগজে-কলমের সীমায় আটকে থাকবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন। অধিকাংশ অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্ম দেশের বাইরে পরিচালিত হয়। ভিপিএন, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এসব প্ল্যাটফর্ম চালানো হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচলিত অভিযান দিয়ে এই অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। এ জন্য উন্নত ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। থাকতে হবে আর্থিক গোয়েন্দা নজরদারি। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং খাতের কার্যকর সমন্বয়ও জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কার্যকর বোঝাপড়া থাকতে হবে।

অনলাইন জুয়ার গ্রাহকদের বড় একটা অংশ তরুণ। কেবল দমনমূলক ব্যবস্থা জুয়া প্রতিরোধে যথেষ্ট না-ও হতে পারে। প্রতিরোধমূলক উদ্যোগও থাকা চাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং গণমাধ্যমকে ডিজিটাল জুয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারে তরুণদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে হবে। অনলাইন প্রতারণা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। যারা অনলাইন জুয়ার আসক্তিতে ভুগছেন, তাদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। অনলাইন জুয়ায় আসক্তিকে শুধু অপরাধের দৃষ্টিতে দেখলে সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষিত থেকে যাবে।

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জটি কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন আইন সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করতে চাই। সমাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্যেই আইনের সাফল্য নিহিত আছে।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   জুয়া  প্রতিরোধ  আইন  বাস্তবায়ন  চ্যালেঞ্জ 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: