ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা পূর্ববঙ্গের মানুষের মনে আশার সঞ্চার করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিরোধিতা, বিশ্বযুদ্ধ, লালফিতার দৈরাত্ম্য, আর্থিক সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
তবে সমাজের কিছু অকুতোভয়, নিঃস্বার্থ, শিক্ষানুরাগীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার প্রায় সাড়ে ৯ বছর পর ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম কর্তব্য হলো- এসব ত্যাগী মানুষকে স্মরণে রাখা।
১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। উচ্চশিক্ষার প্রধান পাদপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এবং এখনও বিরাজমান। ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কর্মযজ্ঞ, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্র গঠন এবং এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে শত বছরের প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অনন্য। একসময়ের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিছু মহান ব্যক্তির কর্মযজ্ঞ।
পূর্ববঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রথম প্রস্তাবক পাঞ্জাবি ব্যারিস্টার আফতাব আহমদ খাঁ। তিনি মুসলমান শিক্ষা সমিতির প্রেসিডেন্ট ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। ১৯০৬ সালের ২৭-২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা সমিতির অধিবেশনে আফতাব আহমদ খাঁ পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন।
অধিবেশনে তিনি জানান যে মুসলিমপ্রধান পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত। ১৯০৮ সালের ১৮-১৯ এপ্রিল ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক মুসলমান শিক্ষা সমিতির সভায় আব্দুস সালাম বলেন, ‘যথাসময়ে আমি দেখতে চাই ঢাকায় একটি আবাসিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়; যার সঙ্গে থাকবে আবাসিক ইসলামি কলেজ ও স্কুল।’
আব্দুস সালাম কলকাতার পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯১০ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকায় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক পরিষদের কাউন্সিল সভায় অনঙ্গ মোহন নাহা রায় বাহাদুর ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী এবং পূর্ববঙ্গ ও আসাম লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ১৯১১ সালের বাজেট বক্তৃতায় ঢাকায় একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেন। তিনি ১৯১১ সালের আগস্টে গভর্নর হেয়ারের বিদায় এবং বেইলির যোগদান অনুষ্ঠানেও একই অনুরোধ জানান। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর স্যার সলিমুল্লাহ হতাশা প্রকাশ করে লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে চিঠি পাঠালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় আনেন ও মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন।
তৎপ্রেক্ষিতে ১৯১২ সালের জানুয়ারিতে হার্ডিঞ্জ ঢাকায় এলে সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল তাকে মানপত্র প্রদান করেন। এ সময় হার্ডিঞ্জ ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন। কাজেই সলিমুল্লাহর ওই পত্রের মূল্য ব্যাপক। এ ছাড়া ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণার পরপরই সলিমুল্লাহর পরামর্শে নওয়াব আলী চৌধুরী কলকাতায় যান ও মুসলিম নেতাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে সমর্থন আদায়ে প্রভাবিত করেন। ১৯১২ সালের মার্চে কলকাতায় মুসলিম লীগের অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারি সিদ্ধান্তকে সলিমুল্লাহ স্বাগত জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে ইন্তেকাল করেন।
২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জের মৌখিক প্রতিশ্রুতির পর ২৭ মে বাংলা সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। রবার্ট নাথানকে প্রেসিডেন্ট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি গঠন করা হয়। ১৯১২ সালের ১০ ডিসেম্বর কমিটি তাদের প্রতিবেদন বাংলা সরকারের কাছে জমা দেয়। সরকারের কাছে মাত্র ৭ মাসেরও কম সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন জমা দেওয়া একটি বিস্ময়কর ঘটনা। কমিটিতে অনেক উপ-কমিটি গঠিত হয়েছিল এবং তাদের অবদানও স্মরণে রাখার মতো। এ ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে, এই কাজে নাথান কমিটি কতটা দায়িত্বশীল, কর্তব্যপরায়ণ ও অভিজ্ঞ ছিলেন।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নওয়াব আলী চৌধুরীর মতো অবদান দ্বিতীয় আর কোনো ব্যক্তির নেই। তিনি নাথান কমিটিরও সদস্য ছিলেন। গভর্নর হেয়ারের বিদায় ও বেইলির যোগদান অনুষ্ঠান ও পরবর্তী সময়ে হার্ডিঞ্জের সঙ্গে বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ১৯১৩ সালের এপ্রিলে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ব্যবস্থাপক সভায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ঢাকা শহরের মধ্যে সীমিত রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় তিনি লর্ড কারমাইকেলকে মেয়াদ শেষ করার পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করার অনুরোধ জানান।
ভারতের লখনৌতে ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে মুসলিম লীগের অধিবেশনে নওয়াব আলী চৌধুরীর এক প্রস্তাব এই মর্মে গৃহীত হয় যে, প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত প্রতিষ্ঠায় লীগ বাংলা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে। তিনি ১৯১৭ সালের মার্চে ভারতীয় ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয় বিল উত্থাপনের সুপারিশ করে বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের জবাবে শিক্ষা সচিব স্যার সংকরণ নায়ার বলেন, সরকার নিশ্চিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একই বছর ২৩ মার্চ ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে গভর্নর জেনারেল লর্ড চেমসফোর্ড জানান যে, ‘তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে নিশ্চিত করতে চান যে লর্ড হার্ডিঞ্জ প্রতিশ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হবে।’ ১৯১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় আইন সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল উত্থাপন করা হলে নওয়াব আলী চৌধুরী বিলটিকে স্বাগত জানিয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে আবেগে উল্লসিত হয়ে বলেন, ‘আজ এই আইন সভায় আমার চেয়ে বেশি সুখী দ্বিতীয় আর কোনো ব্যক্তি নেই’। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার অবদানের কথা স্মরণ করে সিনেট ভবনের নাম ‘সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন’ রেখেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ফজলুল হকের অবদান অপরিসীম। তিনি এর পরিকল্পনা ও স্কিমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং হার্ডিঞ্জের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিমদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এ ধরনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ফজলুল হক ১৯১৩ সালের ৪ এপ্রিল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে এর বিরোধিতা করে বলেন- ‘আমি এই তত্ত্বের প্রতিবাদ করতে চাই যে বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু মুসলিমদের উপকার করার জন্য। ভাইসরয় স্পষ্টভাবে বলেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়টি হিন্দু ও মুসলিমদের সমান সুবিধার জন্য, যেমন হওয়া উচিত।’
প্রতি বছর বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না করে সরকার আশ্বাস দেওয়ায় ফজলুল হক স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন- ‘পূর্ববঙ্গের শিক্ষা অগ্রগতির বাধা দূর করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতিশ্রুতি পাই। সেই ১৯১২ সাল থেকে প্রতি বাজেটে এই প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিধান রাখা হচ্ছে এবং প্রতি বছর আমাদের আশা দিয়ে রাখা হয়েছে যে এই বিশ্ববিদ্যালয় শিগগির একটি বাস্তব রূপ লাভ করবে। এখন আমাদের বলা হচ্ছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্প নিকট ভবিষ্যতে প্রত্যাশার বাইরে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিচারপতি সৈয়দ শামসুল হুদার ভূমিকা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষামন্ত্রী বাজেট বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করলে তার প্রতিবাদে বঙ্গীয় আইন সভায় তিনি জানান যে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুদান কোনো দান নয়, সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে তা দিতে নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ।’
তিনি আইন সভায় জানান, ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করব না, বরং যখন সময় হবে হৃদয় দিয়ে সমর্থন জানাব। কিন্তু এটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে পূর্ববঙ্গের জনগণ ও পূর্ণাঙ্গ প্রদেশের মুসলিমদের প্রতি ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।’ ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আহছানউল্লার ভূমিকা অনন্য। তার ভাষায় : ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া বিল সিনেটে উপস্থিত হইলে দারুণ বিরোধের সৃষ্টি হয়, পরে উহা বিবেচনার জন্য একটি স্পেশাল কমিটি গঠিত হয়। উহার মধ্যে আমি একজন মেম্বর ছিলাম এবং যতদূর সাধ্য উহার আবশ্যকতা সমর্থন করিয়াছিলাম।’
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগীদের কাছে যে ২২টি প্রশ্নের উত্তর আহ্বান করে আহছানউল্লা এর মধ্যে ৮টি ওপর মতামত দেন। সেখানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে তার অভিমত ব্যক্ত করেন। ১৯১৯ সালের ১ নভেম্বর ১৪তম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হলে ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে একমাত্র বাঙালি মুসলমান সদস্য হন খান বাহাদুর আহছানউল্লা।
তিনি বিলের প্রতিটি অনুচ্ছেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেন এবং এর পক্ষে বলিষ্ঠ অবস্থান নেন ও জোরালো অভিমত ব্যক্ত করেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন নাথান কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে ব্রিটেনের ম্যানচেষ্টার, লিডস ও লিভারপুলের আদলে ঢাকায় একক, টিচিং ও আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করেন। কমিশন প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ভারত সরকারের দ্বারা না দেওয়া হতো তবুও বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির সুপারিশে ওই শহরে জরুরি ভিত্তিতে অথবা শিগগির একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ সামনে চলে আসত।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত বোঝা থেকে মুক্তি এবং মফস্বল অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে যদি বিকেন্দ্রীকরণ স্কিম গ্রহণ করা হয়, তা হলে এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকা নিশ্চিতভাবে এর প্রথম সেন্টার হিসেবে চিহ্নিত হবে। কমিশনে বেশ কিছু ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের পক্ষে মতামত দেন। নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের কাছে তিনি প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারি না করে বলেন, ‘পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণস্বরূপ’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেন সেভাবেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। কমিশন তার সঙ্গে একমত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অটোনোমাস বিশ্ববিদ্যালয় করার পক্ষে মতামত দেয়। একজন ব্যক্তির ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ। তিনি তার সমসাময়িক সময়ে একজন দক্ষ শিক্ষা সংগঠক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্যও ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা পূর্ববঙ্গের মানুষের মনে আশার সঞ্চার করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিরোধিতা, বিশ্বযুদ্ধ, লালফিতার দৈরাত্ম্য, আর্থিক সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তবে সমাজের কিছু অকুতোভয়, নিঃস্বার্থ, শিক্ষানুরাগীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার প্রায় সাড়ে ৯ বছর পর ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম কর্তব্য হলো- এসব ত্যাগী মানুষকে স্মরণে রাখা।
লেখক : গবেষক ও সাবেক উপ-রেজিস্ট্রার, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব