যে কারণে পেনাল্টি নেননি লুকাকু

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে গত বুধবার রাতে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অবিস্মরণীয় মহানাটক। সেনেগালের বিপক্ষে থ্রিলারে ভরা ম্যাচে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়

2026-07-02T21:18:16+00:00
2026-07-02T21:18:16+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
খেলা
যে কারণে পেনাল্টি নেননি লুকাকু
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৮ পিএম 
লুকাকু। সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে গত বুধবার রাতে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অবিস্মরণীয় মহানাটক। সেনেগালের বিপক্ষে থ্রিলারে ভরা ম্যাচে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনা কিংবা থিবো কোর্তোয়াদের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের রাতে ম্যাচের অন্তিম লগ্নে দুটি এবং পরে অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি গোল করে বাজিমাত করে রেড ডেভিলরা। তবে এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের সমীকরণের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক পরম ত্যাগ, গভীর মানসিক ক্ষত আর বাবার স্মৃতির প্রতি এক সন্তানের আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও জালের দেখা পেয়ে বেলজিয়ামের ঘুরে দাঁড়ানোর রূপকথাটি লিখেছিলেন দলের জনপ্রিয় স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে যখন বেলজিয়াম পেনাল্টি পায়, তখন স্টেডিয়ামের হাজারো দর্শক থেকে শুরু করে বোদ্ধারাও ধরে নিয়েছিলেন শটটি লুকাকুই নেবেন। তিনি বলটি হাতেও তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে লুকাকু সেই বলটি বাড়িয়ে দেন সতীর্থ ইউরি টিলেমান্সের দিকে। কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়ে টিলেমান্সও কোনো ভুল করেননি, নিখুঁত শটে নিশ্চিত করেন দলের শেষ ষোলোর টিকিট।

ম্যাচ শেষে পেনাল্টি না নেওয়ার সেই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খোলেন লুকাকু। নিজের ভেতরের লড়াইটা উজার করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি চাইলে পেনাল্টিটা নিতে পারতাম। কিন্তু মানসিকভাবে আমি এখনও খুব কঠিন একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই আমি নিজেই চেয়েছিলাম ইউরি পেনাল্টিটি নিক। আমার ব্যক্তিগতভাবে জেতার কোনো প্রয়োজন নেই, জিততে হবে দলকে। সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছে, শটটি ইউরির নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।’


লুকাকুর এই মানসিক বিপর্যস্ততার পেছনে রয়েছে এক গভীর পারিবারিক শোক। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৫৮ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তার বাবা রজার লুকাকু; যিনি একসময় জায়ারের (বর্তমান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো) জাতীয় দলের তারকা স্ট্রাইকার ছিলেন। ফুটবলার বাবার এই চিরবিদায় লুকাকুকে ভেতর থেকে একদম নাড়িয়ে দিয়েছিল। বাবার মৃত্যুর সেই ধাক্কা সামলাতে না পারায় ইতালির ক্লাব নাপোলিতে তার ঘরোয়া মৌসুমটিও কেটেছিল চরম হতাশায়। পুরো মৌসুমে মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে গোল করতে পেরেছিলেন মোটে একটি।

চলমান বিশ্বমঞ্চেও লুকাকুর শুরুটা একেবারেই ভালো ছিল না, প্রথম দুই ম্যাচে পাননি কোনো গোল। তবে খরা কাটিয়ে শেষ দুটি ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে গোল করে স্বরূপে ফেরেন তিনি। অদ্ভুত এক কাকতালীয় বিষয় হলো, এই দুটি গোলই এসেছে ঘড়ির কাঁটার ঠিক একই সময়ে, দ্বিতীয়ার্ধের ৪১তম মিনিটে!

নিজের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। আকাশের দিকে তাকিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ওপরে বসে আমার বাবাই আমাকে এখনও সাহায্য করছেন।’

সেনেগালকে বিদায় করার পর এবার শেষ ষোলোর মঞ্চে বেলজিয়ামের পরবর্তী প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। তবে নকআউট পর্বের এই কঠিন জয় পুরো দলকে আরও বেশি একতাবদ্ধ করবে বলে বিশ্বাস করেন লুকাকু। সেনেগালের প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা পিছিয়ে পড়েও দারুণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি। এই ধরনের ম্যাচে ঠিক এটাই দরকার ছিল, কারণ সেনেগাল এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল। প্রযুক্তিগত, শারীরিক ও কৌশলগত-সব দিক থেকেই তারা দুর্দান্ত। ম্যাচটা সত্যিই খুব কঠিন ছিল। তবে আমরা প্রেসিংয়ের তীব্রতা বাড়িয়েছিলাম। বল দখলে নেওয়ার পর দলের ঐক্য ও লড়াইয়ের যে মানসিকতা ফুটে উঠেছিল, এভাবেই আমরা জিতেছি। এই ধরনের জয় আমাদের দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আমাদের আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ করবে। আমরা সবসময়ই একতাবদ্ধ, তবে এমন জয় দলের ভেতরের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।’

সময়ের আলো/আরবিএন 
  বিষয়:   লুকাকু  সেনেগাল  বেলজিয়াম 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: