আলীম পরীক্ষার প্রথম দিনেই ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের অব্যবস্থাপনার ঘটনা ঘটেছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ভুলবশত অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্র সচিবসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার হদুয়া বৈশাখীয়া দাখিল মাদ্রাসা পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে ৬৫ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শক কিংবা পরীক্ষার্থীদের কারও নজরে বিষয়টি আসেনি। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার সময় এ গরমিল ধরা পড়ে।
ঘটনার পর নলছিটি সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক তদন্ত চালিয়ে কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ হোসাইনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। তাঁর পরিবর্তে একই প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গাজী ফোরকান আহমদকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কক্ষ পরিদর্শক নূরে শেফা রাখি, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মাহমুদুল হাসান এবং শাহ আলম তালুকদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিজভী আহমেদ সবুজ জানান, ঘটনাটি ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে