মাদক কারবারির কাছ থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার এক পুলিশ সদস্যের চাঁদা নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে আমলে নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ১ জুলাই রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (গোয়ালন্দ আমলি আদালত) মো. মহসিন হাসান এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজে ‘দৌলতদিয়া পুড়া ভিটার শীর্ষ মাদক কারবারি রিনার কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছেন গোয়ালন্দ থানার পুলিশ’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি আদালতের দৃষ্টিগোচর হলে বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী এক যুবকের হাতে কিছু টাকা দিচ্ছেন এবং ওই যুবক টাকা নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছেন। ভিডিওর বিবরণ অনুযায়ী, অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি গোয়ালন্দ ঘাট থানায় কর্মরত একজন পুলিশ সদস্য এবং অর্থ প্রদানকারী নারী দৌলতদিয়া এলাকার একজন শীর্ষ মাদক কারবারি।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযোগটি সত্য হলে তা আইনের শাসন, সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তির ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর অনুসন্ধান প্রয়োজন।
এই প্রেক্ষাপটে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯০ (১)(গ) ধারা অনুযায়ী বিষয়টি সুয়োমোটো আমলে নেওয়া হয়। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারকে (এসপি) নিজে অথবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নন—এমন কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে বিস্তারিত অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অনুসন্ধানে যে বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে, ভিডিওটির সত্যতা যাচাই এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা। অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি আসলেই পুলিশের সদস্য কিনা তা নির্ধারণ করা। কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা।
এই আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত কনস্টেবল বদলি, ওসির দাবি ‘নিয়মিত প্রক্রিয়া’।
এদিকে, দৌলতদিয়া পোড়াভিটা থেকে টাকা নেওয়ার ভিডিও ভাইরালের ঘটনার মধ্যেই গোয়ালন্দ ঘাট থানার কনস্টেবল মামুন শিকদারকে গাজীপুর জেলায় বদলি করা হয়েছে। গত ২৮ জুন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির পক্ষে পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোহা. কাজেম উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
তবে এই বদলিকে শাস্তিমূলক মানতে নারাজ গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নিয়মিত বদলির অংশ। কনস্টেবল মামুন নিজেই এখান থেকে বদলি হয়ে অন্য জেলায় যেতে চেয়েছিলেন। তাছাড়া ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রায় ছয় মাস আগের। তখন সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে এই বিষয়ে একটি তদন্ত হয়েছিল।
সময়ের আলো/জোই