যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির আসন্ন জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের শহীদ সর্বোচ্চ নেতার এই বিদায় অনুষ্ঠান ও জানাজা কেবল ইরানি জাতির জন্যই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ, মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তিনি জানান, আজ শুক্রবারের (৩ জুলাই) সংক্ষিপ্ত ও অভ্যন্তরীণ অনানুষ্ঠানিক পর্বের পর আগামীকাল শনিবার থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই (শনিবার) ও ৫ জুলাই (রবিবার) তেহরানের গ্র্যান্ড মুসাল্লায় সকাল ৮টা থেকে সর্বসাধারণ ও বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের জন্য খামেনির কফিন উন্মুক্ত রাখা হবে। দুপুর পর্যন্ত চলবে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব। এরপর দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, সংসদের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশেষ দূতরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন। পরবর্তীতে ৬ জুলাই (সোমবার) তেহরানের রাজপথে অনুষ্ঠিত হবে দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম শোক মিছিল ও কেন্দ্রীয় জানাজা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, আয়াতুল্লাহ খামেনির এই বিদায়ি আনুষ্ঠানিকতা কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি প্রতিবেশী ইরাকেও বিস্তৃত হবে। আগামী ৮ জুলাই (বুধবার) প্রয়াত নেতার মরদেহ বিশেষ বিমানে করে ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাগদাদ অথবা নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কফিন গ্রহণ করা হবে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন ইরাকের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এরপর শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান নাজাফ এবং কারবালা শরিফে খামেনির বিশেষ শোক মিছিল ও জিয়ারত অনুষ্ঠিত হবে।
ইরাকের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) খামেনির মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। ওই দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র নগরী মাশহাদে চূড়ান্ত জানাজা শেষে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
ইরানি কূটনীতিক ইসমাইল বাকায়ি জোর দিয়ে বলেন, সব মিলিয়ে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ থেকে মহামান্য অতিথিরা এই শোকাবহ অনুষ্ঠানে শামিল হচ্ছেন, যা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কতটা সুদৃঢ়।
সময়ের আলো/কহু