শান্তি আলোচনার মাঝে আরাঘচি-গালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, প্রকাশ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের সাথে যুদ্ধ অবসান ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন একটি অত্যন্ত

2026-07-03T12:42:56+00:00
2026-07-03T12:42:56+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬,
৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
শান্তি আলোচনার মাঝে আরাঘচি-গালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, প্রকাশ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম 
ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সাথে যুদ্ধ অবসান ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শান্তি আলোচকদের হত্যার আশঙ্কায় তীব্র উদ্বেগে পড়েছিল ওয়াশিংটন। মার্কিন ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের সূত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এবং ‘দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস’ এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছিল যে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চিরশত্রু ইরানকে এক নজিরবিহীন গোপন সতর্কবার্তা পাঠায়। ওয়াশিংটন তেহরানকে সাফ জানিয়ে দেয় যে— ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফকে হত্যার সুনির্দিষ্ট নীলনকশা আঁকছে ইসরায়েল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ইসরায়েলের এই লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের কৌশল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনি যদি এই ব্যক্তিদেরই হত্যা করেন, তবে তো ইরানের ভেতরে থাকা বাস্তববাদী ও আলোচনার পক্ষের মানুষদেরই হত্যা করলেন। তাহলে শান্তি আসবে কার সাথে?

বিশ্লেষকদের মতে, নিজের মিত্র ইসরায়েলকে রোখার পাশাপাশি শত্রুদেশ ইরানকে মার্কিন প্রশাসনের এই আগাম সতর্কতা দেওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে। যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ফাটল ও মৌলিক পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন এই যুদ্ধ শুরু হয়, তখন দুই দেশের লক্ষ্য ‘ইরানের শাসন পরিবর্তন’ হলেও, পরবর্তীতে মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা বুঝতে পারেন যে তেহরানের ধর্মীয় ও সামরিক নেতৃত্ব ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক পথে হাঁটা শুরু করে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেকোনো মূল্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি আলোচনা ভন্ডুল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

গত মার্চের মাঝামাঝিতে ইসরায়েল যখন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও শান্তি আলোচনার মূল সেতু আলী লারিজানিকে হত্যা করে, তখন ওয়াশিংটন-তেহরান ও তেলআবিবের মধ্যকার সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যায়। এক পশ্চিমা কূটনীতিকের ভাষ্যমতে, পরিস্থিতির মোড় খামেনির মৃত্যুতে ঘোরেনি, ঘুরেছে লারিজানি হত্যাকাণ্ডে। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য একজন উপযুক্ত ইরানি কর্মকর্তার খোঁজ করছিল, কিন্তু ইসরায়েল হঠাৎ করেই তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিল।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ব্যাপারটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তারা (ইসরায়েল) সবাইকে মুছে ফেলছে। আমি চাই না তারা এদের সবাইকে হত্যা করুক।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, স্পিকার গালিবাফ ইতোমধ্যে দু-দুবার ইসরায়েলি হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। একবার একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকেও ইসরায়েল তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে কেবল এটুকুই জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মুহূর্তে শুধু এটাই চান যে, যেকোনো উপায়ে শান্তি প্রক্রিয়াটি যেন এগিয়ে যায়। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেভাবে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক ইরানি আলোচককে হত্যা করছেন, তাতে এই শান্তি চুক্তি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েই যাচ্ছে।


সময়ের আলো/কহু


  বিষয়:   সময়ের আলো  ইরান  তেহরান  ইমাম খামেনি  যুক্তরাষ্ট্র  ইসরায়েল  হত্যা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: