চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯ নম্বর আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং ইউপি সদস্যদের বেতন-ভাতা আটকে রাখাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে পরিষদের ৭ জন সদস্য চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
গত ২৪ মে ওই ৭ ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে এবং প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের আবেদন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন গত ২৪ জুন চেয়ারম্যানকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে আধুনগর ইউপি সদস্য ফরিদ আহমদ, জয়নাল আবেদীন, আবুল হাসান ও সুজন কান্তি দাশ সাংবাদিকদের কাছে লিখিতভাবে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে ও ইউপি সদস্যদের বক্তব্যে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মের কথা উঠে এসেছে, চেয়ারম্যান পরিষদের কোনো সাধারণ সভা বা রেজুলেশন ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বরাদ্দের পরিমাণের সঙ্গে কাজের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। ইউপি সদস্যদের বিগত ১৭ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার প্রায় ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছেন চেয়ারম্যান। বকেয়া টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। গ্রাম আদালতের সালিশের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়, মাটি ও বালুবাহী যানবাহন থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরিষদের ৫ জন পুরুষ ও ১ জন নারী সদস্যসহ মোট ৬ জনকে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন নিজেই লোহাগড়া থানার একটি জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। জন্মসনদ, ওয়ারিশ সনদ ও গ্রাম আদালতের বিভিন্ন সেবা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগও এনেছেন সদস্যরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউপি সদস্যদের আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।
লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন জানান, ইউপি সদস্যদের অনাস্থা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই