গাইবান্ধা শহরে পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিমপাড়া এলাকায় গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুদুর রহমান মাসুদ (২৭) গাইবান্ধা সদর উপজেলা মডেল মসজিদের খাদেম ছিলেন। এই ঘটনার পর থেকে শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে নিজ বাসা থেকে মোটরসাইকেলযোগে মডেল মসজিদে যাচ্ছিলেন মাসুদুর রহমান। পথে পশ্চিমপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পৌরসভার একটি দ্রুতগামী বর্জ্যবাহী ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই চালক ট্রাকসহ ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এই দুর্ঘটনার পর পৌরসভার নজরদারি ও শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শহরের সংকীর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ সড়কগুলোতে পৌরসভার ময়লার গাড়ি এবং বালুবাহী ড্রাম ট্রাকগুলো প্রায়ই গতিসীমা উপেক্ষা করে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে।
পৌরসভার নিজস্ব যানবাহন হওয়া সত্ত্বেও দুর্ঘটনার পর চালক কীভাবে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেতে পারল, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চালকদের জবাবদিহিতা ও ফিটনেস নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে বলে দাবি সচেতন মহলের।
ব্যস্ততম গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ট্রাফিক সংকেত বা জনবল নেই। ফলে মোটরসাইকেল, রিকশার মতো হালকা যানবাহনের সঙ্গে ভারী ট্রাকের সহাবস্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সদর থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে দোষী চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধে পৌরসভার চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান, শহরের ভেতরে ভারী যান চলাচলের সময়সূচি নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
সময়ের আলো/জোই