মসজিদ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একিট প্রতিষ্ঠান। এটি শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার স্থান নয়, বরং ঈমান, শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রাণকেন্দ্র। ইসলামের শুরু থেকেই মসজিদ মানুষের আত্মিক ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর ঘর মসজিদগুলো তারাই আবাদ করে, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১৮)।
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মসজিদ আবাদ করা শুধু ইবাদত নয়, বরং একজন মুমিনের দায়িত্বও।
হিজরতের পর মদিনায় নবীজি (সা.) সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। সেই মসজিদে কেবল নামাজই হতো না, সেখানে হতো কোরআন শিক্ষা, বিচারকার্য, পরামর্শ সভা, অতিথি আপ্যায়ন এবং দরিদ্রদের সহযোগিতার ব্যবস্থা।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদ।’ ( মুসলিম, হাদিস : ৬৭১)।
মসজিদকে সমাজ গঠনের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিশু-কিশোরদের নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক সচেতনতা, অসহায় মানুষের সহযোগিতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আজও। এতে সমাজে ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি সুন্দর সমাজও গড়ে উঠবে।
মসজিদ যত বেশি প্রাণবন্ত হবে, তত বেশি শক্তিশালী হবে আমাদের সমাজ। তাই শুধু নামাজ পড়া নয়, মসজিদকে জ্ঞান, মানবতা ও কল্যাণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের সবার দায়িত্ব।
সময়ের আলো/জেডআই