তুরস্কের কৌতুকশিল্পী ডেনিজ গোকতাশকে ইসলাম ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ‘অপমান’ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
৩২ বছর বয়সী এই কৌতুকশিল্পীকে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো ইউটিউবে প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই শোতে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপমান করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সম্পর্কেও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তিনি এক জায়গায় এরদোয়ানকে ‘স্বৈরশাসক’ বলেছিলেন বলেও জানা গেছে।
প্রায় ৯০ মিনিটের ওই শোটি ইউটিউবে প্রকাশের পর প্রায় ৯ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। পরে এ নিয়ে বহু অভিযোগ জমা পড়ে, যার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
ইস্তাম্বুলের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গকতাসের একটি পরিবেশনায় ‘অপরাধমূলক বক্তব্য’ শনাক্ত করার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়। বিদেশ সফর শেষে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে ফেরার পর পুলিশ তাকে আটক করে।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, তদন্তটি ১ জুন ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক স্ট্যান্ড-আপ কমেডি পরিবেশনায় ধর্মীয় মূল্যবোধকে অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই পরিবেশনায় গকতাস প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, পবিত্র কোরআন এবং কারাবন্দী ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামওগলুর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।
গকতাসের আইনজীবী মেতিন আসলান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে অবমাননার অভিযোগও আনা হয়েছে।
ওই পরিবেশনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। শুক্রবার পর্যন্ত ইউটিউবে এটি ৯০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এক্স, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও এর ভিডিও ক্লিপ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির কয়েকজন নেতা এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গকতাসের সমালোচনা করে তাকে এরদোয়ান ও পবিত্র কোরআনকে উপহাস করার অভিযোগ তোলেন।
হাবেরতুর্কের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে গকতাস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তার কৌতুক ধর্মীয় মূল্যবোধ বা পবিত্র কোরআনকে অবমাননার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, এরদোয়ানকে ‘স্বৈরশাসক’ বলা ছিল একটি রাজনৈতিক মূল্যায়ন, অপমান নয়।
মামলা এড়াতে তিনি তুরস্ক ছেড়ে গেছেন— এমন জল্পনার পর গকতাস চলতি সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি শুধু ছুটি কাটাতে বিদেশে গিয়েছিলেন এবং দেশে ফেরার ইচ্ছা ছিল।
তিনি লিখেছেন, আমি তুরস্কেই আরও বহু বছর থাকতে চাই। আমার উপস্থিতি প্রয়োজন হলে পরবর্তী ফ্লাইটেই দেশে ফিরে আসব।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ