কেন এত বিলম্ব হলো খামেনির দাফন প্রক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর তার দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসলামী সংস্কৃতি ও

2026-07-03T17:33:43+00:00
2026-07-03T17:33:43+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কেন এত বিলম্ব হলো খামেনির দাফন প্রক্রিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম 
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংগৃহীত ছবি
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর তার দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসলামী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী, কোনো মুসলিমের মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব দাফন সম্পন্ন করার প্রচলন রয়েছে। সেই বিবেচনায় এত দীর্ঘ সময় পর দাফন হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এই দীর্ঘ বিলম্বকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দাবি করেন, খামেনির মরদেহ হয়তো অস্থায়ীভাবে কোথাও দাফন করা হয়েছিল। তবে ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা এসব গুজব সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিকে, সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আয়োজন করেছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছিলেন। শুক্রবার থেকে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে তার দাফন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তেহরানে খামেনির মরদেহ আনা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের পতাকাখচিত খামেনির কফিন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক স্থান গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে, দাফন প্রক্রিয়ার আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কালো পোশাক পরিহিত লোকজন কফিনটি নামিয়ে রাখছেন। সেখানে লাল ফুল ও বাতাসে উড়তে থাকা সাদা প্রজাপতি দিয়ে সাজসজ্জা করা হয়েছে।

দেশটিতে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিকভাবে খামেনির দাফন কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কোম ও মাশহাদে বড় শোভাযাত্রা এবং ইরাকের বিভিন্ন শহরে নানা কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংঘাত বন্ধে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া চীন, আফগানিস্তান এবং ককেশাস অঞ্চলে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। 

ইরানের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাসভবনে হামলায় ৮৬ বছর বয়সে খামেনি নিহত হন। তার মরদেহ তিন দিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। এটি দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় দাফন কার্যক্রম হতে যাচ্ছে।  


তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই তার জন্মস্থান উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।

খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই দাফন প্রক্রিয়ার একটি প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। ইরানের শাসকগোষ্ঠী এটিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন ও প্রকাশ্য আনুগত্যের প্রদর্শন হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে তারা এটিকে দেশটির বিপ্লবী চেতনা এখনও অটুট থাকার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে।

কোম শহরের জুমার নামাজের ইমাম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ সাইদি বলেন, শহীদ নেতা ও অন্যান্য শহীদদের জানাজায় বিপুল জনসমাগম ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের আরেকটি গণরায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধানই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী শিয়া ধর্মগুরুও। ইরাক, পাকিস্তান, লেবাননসহ বিভিন্ন দেশের বহু শিয়া মুসলমান তাকে অনুসরণ করতেন। এসব দেশের শিয়া সমাবেশে প্রায়ই তার প্রতিকৃতি দেখা যেত।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ খামেনির জানাজা নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতির মাধ্যমে ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচিত হবে। এর মাধ্যমে জাতির প্রতিশোধের স্পৃহা সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রতিধ্বনিত হবে।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সব জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ইরানিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ব্যাপক উপস্থিতি সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত জবাব হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ইরানি জাতি তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।’

কেন বিলম্বিত হলো দাফন প্রক্রিয়া 

খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর তার দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসলামী সংস্কৃতি অনুযায়ী এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এই বিলম্ব তার মৃত্যুর পর ইরানের সম্মুখীন হওয়া অসাধারণ পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তীব্র ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই দাফন বিলম্বিত হয়েছে। খামেনির মরদেহ ধর্মীয় বিধান মেনেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডক্টর মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, খামেনির মরদেহ প্রায় নিশ্চিতভাবেই হিমায়িত শীতল সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল। এতে কোনো ধরনের এমবামিং করা হয়নি, কারণ ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক এমবামিং নিষিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, শিয়া আইন ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দাফনে বিলম্ব এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি দেয়। ইরানের ফরেনসিক মর্গে এমনিতেই মরদেহ কয়েক মাস পর্যন্ত রাখা হয়। তাই চার মাস সংরক্ষণ করে রাখাটা অস্বাভাবিক নয়।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ




  বিষয়:   খামেনি  দাফন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: