বাংলাদেশি পর্যটকদের আবারও কলকাতায় আগের মতো আসা শুরু হলে তাদের কাছে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শহরটির ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত এলাকার ব্যবসায়ীরা। গত দুই বছরে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে চান না তারা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দেওয়ার পর নতুন আশায় বুক বাঁধছেন কলকাতার মারকুইস স্ট্রিট, সুদ্দার স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, রাফি আহমেদ কিদায়ী সড়ক এবং কলিং স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীরা।
এসব এলাকার হোটেল, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, খুচরা দোকান ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলোর ব্যবসার বড় একটি অংশ বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত দাম নিয়ে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করতে চান না তারা। কারণ পর্যটকদের সামনে ভ্রমণের আরও বিকল্প গন্তব্য রয়েছে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের কীভাবে আরও ভালো সেবা দেওয়া যায়, তা নিয়ে সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত দুই বছরে তারা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে সেই ক্ষতি রাতারাতি পুষিয়ে নেওয়ার চেয়ে পর্যটকদের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। তাদের মতে, পর্যটকেরা যদি মনে করেন যে তারা ভালো সেবা ও অর্থের যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন, তাহলে তারা আবারও কলকাতায় ফিরবেন এবং অন্যদেরও সেখানে যেতে উৎসাহিত করবেন।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী সংগঠনের মহাসচিব হায়দার আলি খান বলেন, এই মুহূর্তে দ্রুত বেশি মুনাফার চেয়ে সদিচ্ছা প্রদর্শনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতা হোটেল, গেস্ট হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আফাক শামীম বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানানো হবে। আগের মতোই তারা তাদের অর্থের যথাযথ মূল্য পাবেন। দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতেই তারা আগ্রহী।
সময়ের আলো/আরবিএন