বিচ্ছেদ নতুন সূচনার শুরু। সম্পর্ক ভেঙে গেলে আমাদের উদযাপন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন হলিউড অভিনেত্রী-গায়িকা জেনিফার লোপেজ। সম্প্রতি এক টকশোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এমন ভাবনার কথা প্রকাশ করেন তিনি।
হলিউডের এই তারকা বলেন, বিচ্ছেদ কোনো ব্যর্থতা নয়। সত্যি বলছি, আমার এমনটাই মনে হয়। এটি নিজের আরও ভালো সংস্করণে পৌঁছানোর সূচনা। খানিকটা ব্যাখ্যা করে জেনিফার লোপেজ বলেন, সম্পর্ক ভেঙে গেলে আমাদের উদযাপন করা উচিত। মানুষ যেন বলে, ‘তোমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে? অভিনন্দন!’ প্রথমত তুমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছ। দ্বিতীয়ত সম্ভবত সেটিই সংশ্লিষ্ট সবার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত ছিল।
তবে যে ব্যক্তি সবসময় হৃদয় ভেঙে বেড়ায় ব্যর্থতা মূলত তারই। জেনিফার লোপেজের ভাষায়, ‘আপনি যদি সারাজীবন মানুষের হৃদয় ভেঙে বেড়ান, তা হলে পরাজয় আপনারই।’
জেনিফার লোপেজের বিশ্বাস, হৃদয়ভাঙা মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে আবেগগত, মানসিক এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো এসেছে হৃদয়ভাঙার অভিজ্ঞতা থেকে। আর এটা শুধু প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়, কাজের ক্ষেত্রেও হতাশা বা ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রেও সত্য।’
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জেনিফার লোপেজ বলেন, কারণ তখনই আপনি গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন, ‘আসলে কী হয়েছিল? আপনি কীভাবে এটা সামলাবেন? আমি কেন বারবার একই ভুল করি? অথবা কেন এমন হলো না? আমি কি আরও ভালো করতে পারতাম?’ এই প্রশ্নগুলোর মধ্য দিয়ে আপনি নিজেকে বদলে ফেলবেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে এক অনুষ্ঠানে জেনিফার লোপেজ বলেন, ‘প্রেমের পথ সবসময় সহজ নয়। প্রেম ছাড়া হৃদয় ভাঙার অভিজ্ঞতা নেই। এটি একটি জটিল বিষয়। কিন্তু এই শেখার মধ্যেই আমরা বড় হয়েছি।’
জেনিফার লোপেজের জীবনে একাধিকবার প্রেম এসেছে। চারবার বিয়ে করেছেন এই অভিনেত্রী। সবশেষ অভিনেতা বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন। গত বছর এ সংসারও ভেঙে যায়। ২০০৪ সালে গায়ক মার্ক অ্যান্থনিকে বিয়ে করেন লোপেজ। ২০১৪ সালে বিয়েবিচ্ছেদ হয়। তাদের দুটি সন্তান আছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও