ইউরোপের বাজারে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সর্ববৃহৎ বাজার ইউরোপ। অথচ এই বাজারে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি বছরের প্রথম চার

2026-07-04T05:58:53+00:00
2026-07-04T05:58:53+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
ইউরোপের বাজারে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৮ এএম 
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সর্ববৃহৎ বাজার ইউরোপ। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সর্ববৃহৎ বাজার ইউরোপ। অথচ এই বাজারে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। ইইউতে প্রতিযোগী অন্য কোনো দেশের রফতানি এতটা কমেনি। অর্থাৎ ইইউতে তৈরি পোশাকের রফতানি কমায় বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।

তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা বলছেন, গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর চীনের ব্যবসায়ীরা ইইউর বাজার ধরার জন্য আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে মূল্যছাড়ে ইইউর ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ নিতে শুরু করেন চীনারা। ভারতের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হওয়ায় কিছু ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পার্শ্ববর্তী দেশটিতেও ব্যবসা বাড়াচ্ছে। আবার ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজারটিতে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে গেছে। সব মিলিয়ে তাই ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমছে। এতে উদ্যোক্তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। 

বাংলাদেশের রফতানি কমে যাওয়ার চিত্রটি ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) চীন, বাংলাদেশ, তুরস্ক, ভারত, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে ইইউর ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ কম।

ইইউর বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে সবসময়ই চীনের আধিপত্য। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশটি ৭৯৫ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। এই রফতানি গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ কম। তার মানে সামগ্রিকভাবে ইইউর ব্যবসায়ীরা তৈরি পোশাক কেনা যতটা কমিয়েছেন, সেই তুলনায় চীন থেকে ততটা কমাননি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটি উল্টো। ইইউর ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে যে তৈরি পোশাক কেনা কমিয়েছেন, তার তুলনায় বাংলাদেশ থেকে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ কম কিনেছেন। এই বাজারে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশ ৬০৯ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশ রফতানি করেছিল ৭৫৪ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক। তার মানে এবার বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

চীন যখন ইইউতে আগ্রাসী বিপণন শুরু করল, তখন তাদের রাষ্ট্র সহায়তা করেছে। আর আমাদের সরকার সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো খারাপ অবস্থায় থাকায় সহায়তা না পেয়ে অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে কিংবা তাদের রফতানি বন্ধ হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রথম ১১ মাসে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। তার মধ্যে ইইউর বাজারে গেছে ৪৯ শতাংশ বা ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এ সময়ে রফতানি কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।

সুবিধাজনক অবস্থানে ভিয়েতনাম : চীন ও বাংলাদেশের পর ইইউতে শীর্ষ তৈরি পোশাক রফতানিকারক হলো তুরস্ক, ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। তার মধ্যে তুরস্ক গত জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ২৪২ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। তাদের রফতানি কমেছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। তারপর ভারত ১৬৪ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রফতানি করলেও তাদের রফতানি কমেছে ১২ শতাংশ।

শীর্ষ ১০ তৈরি পোশাক রফতানিকারকের মধ্যে ভিয়েতনামের রফতানি সবচেয়ে কম কমেছে, শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। ইইউর বাজারে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশটি রফতানি করেছে ১৩৭ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক।

এ ছাড়া কম্বোডিয়ার ১২, পাকিস্তানের ১৮, মরক্কোর ৯, শ্রীলঙ্কার সাড়ে ১৪ ও ইন্দোনেশিয়ার তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশ।

পিছিয়ে পড়ার কারণ : ইইউর বাজারে চীন বাংলাদেশের চেয়ে বেশি অর্থের তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও পরিমাণের দিক থেকে দেশটি পিছিয়ে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে চীন ৪১ কোটি কেজি তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তার বিপরীতে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৪৪ কোটি কেজি তৈরি পোশাক, যা গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কম। পরিমাণের দিক থেকে চীনের কমেছে সোয়া ৩ শতাংশ।

ইইউতে চীনের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে মূলত তৈরি পোশাকের দামে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে চীন প্রতি কেজি তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে ১৯ দশমিক ৪৪ ইউরোতে। আর বাংলাদেশ প্রতি কেজি রপ্তানি করেছে ১৩ দশমিক ৯৬ ইউরোতে। যা কিনা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১০ শতাংশ কম। চীনের দাম কমেছে মাত্র ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। যদিও তুরস্ক, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি করা প্রতি কেজি তৈরি পোশাকের দাম বেড়েছে। ভারতের কমেছে পৌনে ৫ শতাংশ।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   ইউরোপ  বাজার  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: