ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৯৫৪ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ হাজার ৫৯২ জন। দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
১২৬ বছর পর ভেনেজুয়েলার মানুষ এত শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী হলো। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দেশটিতে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা-এর তথ্য মতে, ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইয়ারাকুই অঙ্গরাজ্যের ইউমারে ও সান ফেলিপে শহরের কাছাকাছি। মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৮৯০টি আফটারশক বা পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার দুর্যোগ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ হাজারের বেশি পরিবারকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাবে ৮৮৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৮৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ার কথা বলা হলেও, নাসার স্যাটেলাইট গবেষণায় দেখা গেছে এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬৭০ কোটি (৬.৭ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে ভেনেজুয়েলা এখন বড় ধরনের চিকিৎস সংকটের মুখে পড়েছে। খোলা আকাশ ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা হাজার হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন, প্রচণ্ড গরম এবং বর্জ্যের কারণে দুর্গত এলাকায় সংক্রমণ ও মশাবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিপর্যয় মোকাবিলায় কারাকাস থেকে ৩০ হাজার স্থানীয় কর্মী এবং বিভিন্ন দেশের ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে। ইকুয়েডর, ইসরায়েলসহ এমনকি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা অনেক দেশের উদ্ধারকারীরাও এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তার জন্য ৯০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যেই কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে মেরামত করেছে এবং উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি