দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কনস্তান্তিনোভকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ বাহিনী বলে দাবি করেছে মস্কো। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শহরটির দখলকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাকি অংশে অগ্রযাত্রার জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, কনস্তান্তিনোভকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ক্রামাতোরস্ক, স্লাভিয়ানস্কসহ ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষাব্যূহের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ আরও সহজ হয়েছে।
দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কনস্তান্তিনোভকা দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৪ সালের পর থেকে শহরটিতে ব্যাপক প্রতিরক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়।
রুশ পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটিতে তীব্র লড়াই চলে। একাধিক দিক থেকে অগ্রসর হয়ে রুশ বাহিনী ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষাকে বিচ্ছিন্ন করে এবং ধাপে ধাপে শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
গত ৩ জুলাই একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনকালে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, কনস্তান্তিনোভকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ইউক্রেনীয় বাহিনীর অবশিষ্ট অবস্থানগুলো ধ্বংসের ক্ষেত্রে প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, রুশ বাহিনী পুরো যুদ্ধফ্রন্টে আক্রমণাত্মক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং ইতিবাচক অগ্রগতি ধরে রেখেছে।
রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনীয় বাহিনী শহরজুড়ে কংক্রিটের বাঙ্কার, শিল্প এলাকা, বেসমেন্ট ও আবাসিক ভবনকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে তুলেছিল। তবে ছোট ছোট আক্রমণকারী দল ব্যবহার করে রুশ সেনারা প্রতিরক্ষা ভেঙে শহরের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
তাদের দাবি, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, বেসমেন্ট ও ধ্বংসস্তূপে লুকিয়ে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের খুঁজে বের করার অভিযান চলছে এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় রুশ পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার বিজয় নিয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইউক্রেন রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে গেলে সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করবে মস্কো।
সময়ের আলো/কেএইচও