যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে দেশজুড়ে বইছে অসহনীয় ও ভয়াবহ দাবদাহ। নজিরবিহীন এই তাপপ্রবাহের কারণে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেড ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকেই দেশটির পূর্ব উপকূল ও মিডওয়েস্ট অঞ্চলের প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এই অসহনীয় গরমের কবলে পড়েছেন।
স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে এবার দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ থাকলেও প্রকৃতির বিরূপ আচরণে তা কিছুটা ম্লান হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ফিলাডেলফিয়ার বিখ্যাত ‘স্যালুট টু ইন্ডিপেন্ডেন্স সেমি-কুইনসেন্টেনিয়াল প্যারেড’ বাতিল ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা। এদিকে, রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ গত শুক্রবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। মেলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের জরুরি সেবা নিতে হয়েছে। ৪ জুলাই সকালে ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যবাহী ‘ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে প্যারেড’ও জননিরাপত্তার খাতিরে বাতিল করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্যমতে, অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে গেছে। বাতাসের আর্দ্রতার কারণে এই গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। ডিসি ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, মেলা প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকজনকে হিট-স্ট্রোক ও তাপজনিত অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা রাখলেও জননিরাপত্তায় প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে।
নিউইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ‘কুলিং সেন্টার’ খোলা হয়েছে। নাগরিকদের প্রতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এবারের দাবদাহকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ধরনের তাপপ্রবাহ এখন আরও বেশি ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। ২৫০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ক্ষণে আনন্দ উদযাপনের চেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকেই প্রশাসন এখন প্রধান্য দিচ্ছে।
সময়ের আলো/কহু