ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন এক সপ্তাহব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে বিস্তৃত এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তেহরান কেবল শোক পালনই নয়, বরং যুদ্ধপরবর্তী বাস্তবতায় নিজেদের টিকে থাকার ও শক্তিমত্তার বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শনিবার (৪ জুলাই) থেকে খামেনেইর মরদেহ ঘিরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের ঠিক পরেই এই আয়োজন এবং শিয়া ইসলামের শোকের মাস ‘মহররম’-এর সঙ্গে এর সময়ের মিল ঘটানো হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে খামেনিকে কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়, বরং শিয়া ঐতিহ্যের শাশ্বত ‘শহীদ’ বা ‘প্রতিরোধের প্রতীক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে ইরানি শাসকগোষ্ঠী।
এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লজিস্টিক কর্মযজ্ঞ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। কয়েক মিলিয়ন মানুষের সমাগম সামলাতে তেহরানজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা: শোকাহত মানুষের জন্য প্রায় ৫০ মিলিয়ন রুটি তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১৬টি ভ্রাম্যমাণ বেকারি ও হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন; ২,৫০০ অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার এবং ১০০টি ড্রোন মোতায়েন রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে দুই ডজনেরও বেশি হাসপাতাল; তেহরানের ১৭ মিলিয়ন বাসিন্দার শহরে নজিরবিহীন ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে; শহরটির প্রধান সড়কগুলো ঘিরে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি পুত্র ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই আয়োজনে সশরীরে উপস্থিত হবেন কি না। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাবার সঙ্গে একই হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। তার উপস্থিতি কি এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে নতুন মাত্রা দেবে, নাকি নিরাপত্তার কারণে তিনি আড়ালেই থাকবেন— তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, দেশের নেতৃত্বকে ঘিরে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে অন্তিম শয়ানে শায়িত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা খামেনি-যুগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে।
সময়ের আলো/কহু