রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যেই ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, রাশিয়ার কারণে গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রাখা উচিত নয়।
৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভের এই আহ্বানকে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে তিনি সরাসরি জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেননি।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, সামরিক আইন বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা যায় না। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হলেও যুদ্ধের কারণে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
ফেদোরভ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেনের পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের জন্য একটি ‘আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা’ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি দেশটিতে একটি ‘ব্যবস্থাগত শাসন সংকটের’ কথা উল্লেখ করেন এবং পরিবর্তনের বিষয়ে ভয় পাওয়ার অভিযোগ তোলেন।
গত মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত হন ফেদোরভ। মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালনের পর তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভও হয়েছিল। দায়িত্বে থাকাকালে তিনি দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, সামরিক প্রযুক্তি ও ড্রোন ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
ফেদোরভের বরখাস্তের সঙ্গে সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে তার বিরোধের সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে সিরস্কিকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফেদোরভকে সরকারের অন্য কয়েকটি পদে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই ফিরতে চান বলে জানিয়েছিলেন।
এদিকে ফেদোরভের নির্বাচনের আহ্বানে ইউক্রেনের কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমালোচক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে যুদ্ধকে নির্বাচন এড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করেছিলেন। জবাবে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, মিত্ররা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত ইউক্রেন। তবে রুশ হামলার ঝুঁকির মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা নিয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ