বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে থাকা আইনজীবীদের আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি আইনজীবীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে যুক্তরাজ্য।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার পেশা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (বিএসবি) তাদের ‘ট্রান্সফারিং কোয়ালিফায়েড লইয়ার’ (টিকিউএল) প্রকল্পে নতুন আবেদন নেওয়া স্থগিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জমে থাকা আবেদন কমাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে বিদেশি আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না। তবে, যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত কোনো ব্যারিস্টার চেম্বারে কাজের প্রস্তাব থাকলে তারা আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
বিএসবি জানিয়েছে, টিকিউএল প্রকল্পে বর্তমানে জমা পড়া মোট আবেদনের অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আইনজীবীদের কাছ থেকে আসছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অন্য দেশের যোগ্য আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পান।
গত ৩ বছরে টিকিউএলে আবেদনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১-২২ সালে যেখানে ৩২৫টি আবেদন জমা পড়েছিল, ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৪টিতে।
আবেদন বেড়ে যাওয়ায় সেগুলো যাচাই করতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। বিদেশি প্রার্থীরা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি আরও দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএসবি।
সংস্থাটির আরেকটি উদ্বেগ হলো, টিকিউএলে আবেদনকারীদের অনেকেরই যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা নেই। তাদের অনেকে নিজ দেশেই আইন পেশায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএসবির মহাপরিচালক ফিল গোল্ডিং বলেন, ‘নিয়ম ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে চান এমন প্রার্থীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া যাবে এবং জমে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদনও কমানো সম্ভব হবে।’
বিদেশি প্রার্থীদের পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিছু প্রার্থী তাদের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যারিস্টারদের অর্থ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে অনিয়মের আশঙ্কায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রার্থীদের অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করেছিল বিএসবি।
এর পরের বছর অনলাইনে নেওয়া সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরীক্ষায় প্রতারণার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নতুন নিয়মে বিদেশি সব প্রার্থীকে বিএসবির অনুমোদিত পরীক্ষা কেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
ভারতীয় উপমহাদেশের আইনজীবীদের কাছ থেকে, বিশেষ করে যারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে কাজ করেন না, টিকিউএলে আবেদনের সংখ্যা কেন এত বেড়েছে, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বিএসবি। তবে, কিছু আইন স্কুল দুই দেশের আইনে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগকে আইনজীবীদের জীবনবৃত্তান্ত শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে প্রচার করেছে। নিজ দেশে কাজ করলেও এই যোগ্যতা কাজে লাগবে বলে তারা প্রচার করেছে।
এ ছাড়া, ব্রিটিশ চেম্বারে শিক্ষানবিশ বা চাকরির সুযোগ পাওয়া বিদেশি ব্যারিস্টারদের ভিসার ব্যবস্থাও করে বার কাউন্সিল।
সময়ের আলো/মহু