ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবর্তিত ভিসা নীতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সাংবাদিকতা বিভাগেও। পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ওপর নির্ভরশীল সাংবাদিকতা বিভাগের একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে এক বছরের জন্য নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চারজনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের মাস্টার অব আর্টস (এমএ) প্রোগ্রামে এক বছরের জন্য ভর্তি বন্ধ রাখা হবে। এই সময়ে ২০০৫ সালে চালু হওয়া প্রোগ্রামটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। তবে, ভর্তি স্থগিতের বিস্তারিত কারণ তখন জানানো হয়নি।
সাংবাদিকতা বিভাগের ডিন জেলানি কব জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে যখন প্রোগ্রামটি চালু হয়েছিল, তখন সাংবাদিকতার কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতি বর্তমান সময়ের মতো ছিল না। তাই ডিগ্রি প্রোগ্রামটি নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ভিসা-সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয়ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় ছিল। একই সঙ্গে প্রোগ্রামটিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা নিয়ে ভাবার জন্যও সময় প্রয়োজন।’
ভর্তি স্থগিতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির সম্পর্ক এবং এক বছর ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়টি এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।
কলাম্বিয়ার সাংবাদিকতা বিভাগের এমএ প্রোগ্রামে বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই প্রোগ্রামের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।
তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ কলাম্বিয়ায় আবেদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তবে আন্তর্জাতিক আবেদন কতটা কমেছে, তার সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
এমএ প্রোগ্রামটি মূলত কর্মজীবনের মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকা সাংবাদিকদের জন্য তৈরি। রাজনীতি, ব্যবসা ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয় এই কোর্সে। অন্যদিকে মাস্টার অব সায়েন্স (এমএস) প্রোগ্রামটি তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের জন্য।
তবে, এমএ প্রোগ্রামে ভর্তি স্থগিত করা হলেও এমএস প্রোগ্রামে ভর্তি বন্ধ করা হয়নি।
ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি
ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতির পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। গত বছর নতুন শিক্ষার্থী ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে তা আবার চালু করা হলেও আবেদনকারীদের অনলাইন কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে যাচাই করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করার জন্য এই যাচাই প্রয়োজন।
এ ছাড়া, চলতি বছর বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ সীমিত করার একটি নতুন নিয়ম আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে, কার্যকর হওয়ার আগেই গত মাসে একজন ফেডারেল বিচারক সেটি আটকে দেন। ওই বিচারক নিয়মটির পক্ষে দেওয়া যুক্তিকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেন।
কলাম্বিয়াও ছিল প্রশাসনের নজরে
২০২৪ সালে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে আসা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কলাম্বিয়াও ছিল। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টি ফেডারেল সরকারের তদন্তের নিষ্পত্তি করতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। এর মাধ্যমে স্থগিত হওয়া অধিকাংশ ফেডারেল তহবিল পুনরুদ্ধারের পথও তৈরি হয়।
ভিসা জটিলতার একটি উদাহরণ হিসেবে ভারতীয় সাংবাদিক কৌশিক রাজের ঘটনাও সামনে এসেছে। তিনি কলাম্বিয়ার আলাদা ডেটা জার্নালিজম এমএস প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে গত বছর তার যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় বলে দ্য ইন্টারসেপ্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসা প্রত্যাখ্যানের চিঠিতে বলা হয়েছিল, পড়াশোনা শেষে ভারতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কৌশিক রাজ তার যথেষ্ট সম্পর্ক বা যোগসূত্র প্রমাণ করতে পারেননি।
শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব এরই মধ্যে এমএ প্রোগ্রামের কাঠামোতেও পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির মতে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ও রাজনীতির সেমিনার একত্র করার মতো পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার কলাম্বিয়ার সাংবাদিকতা বিভাগ দুই বছরের একটি খণ্ডকালীন অনলাইন এমএস প্রোগ্রাম চালুর ঘোষণাও দিয়েছে। এই কোর্সে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ছাড়াই অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
সূত্র : রয়টার্স
সময়ের আলো/মহু