যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের যৌথ সামরিক মহড়া প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে এনেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। চলমান ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও এখন তা শুক্রবারই শেষ হবে। পাশাপাশি দুই দেশ কিছু যৌথ মাঠপর্যায়ের সামরিক প্রশিক্ষণও কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার আগ্রহ থেকেই ট্রাম্প মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রস্তুতি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মূলত কম্পিউটারভিত্তিক কমান্ড পোস্ট মহড়া। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা যাচাই ও সমন্বয় বাড়ানো হয়। একই সময়ে সাধারণত মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু সামরিক প্রশিক্ষণও পরিচালিত হয়।
সিউলের আসান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের বিশ্লেষক ইয়াং উকের মতে, সামরিক মহড়া কমানো বা স্থগিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামরিক কমান্ডাররা নিয়মিত পরিবর্তিত হন। দীর্ঘ সময় মহড়া বন্ধ থাকলে নতুন কমান্ডাররা আগের প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে অপরিচিত হয়ে পড়তে পারেন।
এদিকে মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বুধবার এক মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়াকে ‘উন্মত্ত’ ও ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া বলেছে, এসব সামরিক মহড়া তাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে তারা প্রতিপক্ষের সামরিক হুমকি মোকাবিলা করবে।
তবে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর কারণে কিম জং উন ট্রাম্পের এই উদ্যোগে সহজে সাড়া দেবেন না। বড় ধরনের ছাড় না পেলে উত্তর কোরিয়া আবার আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী হবে না বলেও মনে করছেন তারা।
২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ট্রাম্প ও কিম তিনবার বৈঠক করেছিলেন। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবি এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পরিধি নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের জানানো হয়নি বলে বুধবার সংসদীয় শুনানিতে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক। তাঁরা অবশ্য দুই দেশের সামরিক জোট এখনো শক্তিশালী রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন নয়; বরং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে আরও সহযোগিতা আদায় করা।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রকে কী ধরনের বাস্তব ও সামরিক সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করছে।
এর আগে ২০১৮ সালেও কিমের সঙ্গে প্রথম বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক মহড়া বাতিল করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি মহড়াগুলোকে ‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করলে বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছিলেন।
সময়ের আলো/কেএইচ