গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের আগে ও পরের স্যাটেলাইট ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন হলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যায়, গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’ রোববার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি বলেন, গাজার পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত অথবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। পোস্টে তিনি ইসরাইলের নাম উল্লেখ না করলেও গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে ত্রাণ ও আশ্রয় তৈরির উপকরণ সরবরাহে এখনও বিধিনিষেধ ও বিলম্বের মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তব চিত্র দেখা যায়।’
জোলি আরও বলেন, শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বেসামরিক মানুষের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
আলজাজিরা আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের (ইউএনওস্যাট) সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, প্রায় এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনার সংখ্যা ৯ শতাংশ বেড়েছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ভবন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্থাপনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।