নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব ভিনিসিউস জুনিয়রের বদলে ব্রুনো গিমারায়েসকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচজুড়ে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি মিস করে ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় সেলেসাওরা। ম্যাচ শেষে এ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে মাতেউস কুনিয়া পেনাল্টি আদায় করেন। ধারণা করা হয়েছিল, স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসবেন ভিনিসিউস জুনিয়র। তবে দায়িত্ব পান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস। ধীরগতির রান-আপ ও স্টাটার-স্টেপে নেওয়া তার শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনোকে মাঠ থেকে তুলে নেন আনচেলত্তি। ইনজুরি টাইমে ব্রাজিল ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকাকালে বদলি হিসেবে নামা নেইমার আরেকটি পেনাল্টি থেকে গোল করেন। সেখানেও স্পটকিক নিতে দেখা যায়নি ভিনিসিউসকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, পেনাল্টি নেওয়ার ক্রম নির্ধারণে তারা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা গত এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দেরও, আমাদের খেলোয়াড়দেরও। সেলেসাও দলে সেরা পেনাল্টি টেকার ছিলেন রাফিনিয়া। চোটের কারণে ম্যাচটি খেলতে পারেননি বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।
আনচেলত্তি আরও বলেন, যারা উপলব্ধ ছিল, তাদের মধ্যে সেরা ছিলেন নেইমার, তারপর ইগর থিয়াগো, এরপর ব্রুনো গিমারায়েস এবং তারপর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। আমরা ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলাম, কারণ আমাদের মনে হয়েছে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ছিলেন। সে সময় নেইমার ও ইগর থিয়াগো দুজনই বেঞ্চে ছিলেন।
২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আনচেলত্তির অধীনে রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময় ভিনিসিউস জুনিয়র ৯টি পেনাল্টির মধ্যে ৬টি সফলভাবে গোল করেছিলেন।
তবে জাতীয় দলের হয়ে তার পেনাল্টি রেকর্ড ততটা ভালো নয়। ব্রাজিলের হয়ে নেওয়া দুটি পেনাল্টির মধ্যে তিনি একটি গোল করেছেন। অন্যটি ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আনচেলত্তির অধীনেই মিস করেছিলেন। আনচেলত্তির ছেলে ও সহকারী কোচ দাভিদে আনচেলত্তিও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন।
টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি আগেই নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ছিল, যেমনটা আমরা সব ম্যাচেই করি। কে পেনাল্টি নেবে, তা আমরা ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিই। এটি কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্ত। পেনাল্টি মিস করা ফুটবলেরই অংশ, আর আজ সেটাই ঘটেছে।
মজার বিষয় হলো, ম্যাচে বলের দখল মাত্র ৩৪ শতাংশ থাকলেও অধিকাংশ গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বল দখলের ম্যাচেও সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিতে হয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন