ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত প্রাঙ্গণে বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিয়েছেন খামেনির তিন ছেলে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) খামেনির মরদেহ নেয়া হবে রাজধানীর ফ্রিডম স্কয়ারে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে শেষ হয়েছে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা। সেখানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ।
সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের রাজপথে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিশাল শেষযাত্রা। এরপর, শোক আয়োজনের অংশ হিসেবে তার মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকে নেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন ধরে তেহরানে বিপুল মানুষের সমাগম অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির কফিন তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হবে।
এরপর ৭ জুলাই তার মরদেহ পবিত্র নগরী কোমে নেওয়া হবে। ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকের কারবালা ও নাজাফ শহরে নেওয়া হবে। সবশেষে ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান ইরানের মাশহাদে মরদেহ নেওয়া হবে। সেখানেই ইমাম ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
শোকের আয়োজনে অংশ নেওয়া লাখো মানুষ আমেরিকা ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দেন। একই সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় খামেনি ও দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিশোধের দাবিও তোলেন তারা।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এ আয়োজনকে কেবল ধর্মীয় শোকানুষ্ঠান নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় সংহতির দৃষ্টান্ত হিসেবেও তুলে ধরছে।
শেষ বিদায়ে বাবার কফিনের পাশে জানাজায় অংশ নেন খামেনির তিন ছেলে। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবাকে হত্যার হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে এখনো জনসমক্ষে আসছেন না।
শেষকৃত্যে নিরাপত্তা শঙ্কায় সোমবার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে তেহরানের আকাশসীমা। একই সঙ্গে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
মঙ্গলবার মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হলেও ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে আরও একদিন। এছাড়া, ৯ জুলাই চূড়ান্ত দাফন উপলক্ষে মাশহাদের আকাশসীমা ও শহিদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে, মাশহাদগামী ফ্লাইট ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/আআ