কান্নাভেজা কফিন, আর্তিভরা হৃদয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

আগ্রাসী মার্কিন ও ইহুদি বাহিনীর বর্বর হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ২য় দিনের জানাজা ছিল প্রথম দিনের

2026-07-06T02:25:44+00:00
2026-07-06T02:25:44+00:00
 
  সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,
২২ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কান্নাভেজা কফিন, আর্তিভরা হৃদয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ২:২৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
আগ্রাসী মার্কিন ও ইহুদি বাহিনীর বর্বর হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ২য় দিনের জানাজা ছিল প্রথম দিনের মতোই হৃদয়বিদারক। তেহরানের ইমাম খামেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লায় এদিনও জড়ো হন লাখ লাখ মানুষ। সবার চোখই ছিল ভেজা, হৃদয়ে ছিল সর্বোচ্চ নেতার মাগফেরাত কামনার আর্তি। 

রোববারের জানাজায় খামেনির তিন ছেলেকে উপস্থিত হতে দেখা যায়। তবে বাবার স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত মোজতবা খামেনিকে এদিনও দেখা যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্স ইমাম খামেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লার প্রাঙ্গণে সাজানো কফিনগুলোর পেছনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করছেন মোস্তফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনি। খবর রয়টার্সের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর যৌথভাবে আগ্রাসন শুরু করার পর এক বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হন। কয়েক সপ্তাহ ধরে তুমুল লড়াই চলার পর উভয়পক্ষ একরকম যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। এই সংঘাতে গোটা অঞ্চলজুড়ে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হলেও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ইরানের সরকার সদর্পে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে এবং যুদ্ধে আমেরিকার গর্বের বুদ্বুদ ফাটিয়ে দিয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে ও বিপ্লবী চেতনা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ইরান সরকার আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য এক সপ্তাহব্যাপী শোকযাত্রা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে তার মরদেহকে প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতেও নিয়ে যাওয়া হবে। শনিবার সকালে কফিনটি অভ্যন্তরীণভাবে রাখা হয়েছিল, যেখানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিদেশি অতিথিরা শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পান। পরে বিকালে কফিনটি কাচঘেরা একটি ঘরের মধ্যে প্রকাশ্যে রাখা হয়। সেখানে তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ ও ১৪ মাস বয়সি নাতনির মরদেহও রাখা ছিল।

রোববার তেহরানের কেন্দ্রীয় মসাল্লা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার শোকসন্তপ্ত মানুষের ঢল নামে। সৈন্য, ধর্মীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ও প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই। উপস্থিত জনগণ আমেরিকা ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ লেখা পতাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

জানাজার নামাজ পড়ার সময় মাসউদ খামেনিকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। তিনি কেফিয়া দিয়ে চোখ মুছছিলেন। এই কেফিয়া ইরানে বিপ্লবী আদর্শ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

তবে এদিন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি। হামলার দিন তিনিও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে, হামলায় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং এক বা উভয় পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এখনও তার কোনো ছবি বা প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এক শোকসন্তপ্ত নারী আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে বলেন, নামাজ শুরুর আগ পর্যন্ত আমি আশা করছিলাম, তিনি নিজে এসে উপস্থিত হবেন। আরেক ইরানি নাগরিক জানান, তাকে প্রকাশ্যে আসতেই হবে এমন কোনো কথা নেই, তাকে এখন আরও শক্ত হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পোষ্য ইসরাইল নামক বিষাক্ত সাপের বিষদাঁত উপড়ে দিতে হবে।

চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ গত মাসে সাময়িক চুক্তির মাধ্যমে স্থগিত হয়েছে। ইরানের কর্তৃপক্ষ এই চুক্তিকে ‘মহা অপশক্তির বিরুদ্ধে জয়’ হিসেবে দেখছেন। এর ফলে দেশটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধাও আদায় করে নিতে সমর্থ হয়েছে।


আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইলি হামলায় ইরানে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। যাদের মধ্যে অনেক শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও সামরিক কমান্ডারও ছিলেন। সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। 

তবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ধূলিসাৎ করে দেয় এবং হরমুজ প্রণালির ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কারণেই দ্রুত শান্তি চুক্তিতে বাধ্য হন।

এই সাময়িক চুক্তির আওতায় বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা হবে এবং কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, খামেনির শেষযাত্রা ও শোক অনুষ্ঠানের কারণে শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। 

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী শোকযাত্রার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সে সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার তেহরানের মূল সড়কজুড়ে বিশাল শোকযাত্রা, মঙ্গলবার ধর্মীয় রাজধানী কোম শহরে জানাজা, বুধবার ইরাকের নজাফ ও কারবালা শহরে জানাজা এবং বৃহস্পতিবার ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদ শহরে শেষ জানাজা ও দাফন করা।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোয় লাখ লাখ মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নেবে এবং তার সুব্যবস্থা করা হবে। তাদের জন্য বিনামূল্যে পরিবহন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত শুধু তেহরানের মেট্রোতেই সাত কোটি যাত্রী কেন্দ্রীয় অঞ্চলে যাতায়াত করেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   কান্নাভেজা  কফিন  আর্তিভরা  হৃদয়  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: