‘আয়াতুল্লাহ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘আল্লাহর নিদর্শন’ বা ‘ঐশ্বরিক চিহ্ন’। এটি দ্বাদশ শিয়া ইসলামে একটি উচ্চ ধর্মীয় পদবি, যা সাধারণত সেসব আলেমদের জন্য সংরক্ষিত যারা সেমিনারে কয়েক দশক ধরে ইসলামী আইনশাস্ত্র ও ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন এবং শিক্ষাদান করেছেন।
একজন আয়াতুল্লাহকে সাধারণত একজন মুজতাহিদ হিসেবে গণ্য করা হয়— যিনি স্বাধীন আইনি যুক্তি প্রয়োগ করতে এবং ধর্মীয় ফতোয়া জারি করতে যোগ্যতাসম্পন্ন একজন আইনজ্ঞ।
যদিও ‘আয়াতুল্লাহ’ মূলত একটি ধর্মীয় উপাধি, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে এটি রাজনৈতিক ক্ষমতার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উচ্চ পর্যায়ের ধর্মীয় যোগ্যতা থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়। শিয়া ইসলাম ইরানের সরকারি রাষ্ট্রধর্ম, যা আনুমানিক ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষ অনুসরণ করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উপাধিটি এক বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য লাভ করেছে, কারণ ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমগুলো মোজতবা খামেনিকে তার ধর্মীয় মর্যাদা জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে ‘আয়াতুল্লাহ’ বলে উল্লেখ করছে।
তার প্রয়াত পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে, মোজতবা খামেনিকে ব্যাপকভাবে ‘হোজাতে ইসলাম’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো, যা আয়াতুল্লাহর চেয়ে এক ধাপ নিচের পদমর্যাদা।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতাকে অবশ্যই একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি আইনবিদ হতে হবে, এবং পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরাধিকারের জন্য মোজতবা খামেনির ধর্মীয় পদমর্যাদা বৃদ্ধি করা ছিল প্রয়োজনীয় ধর্মীয় বৈধতা জোরদার করার একটি উপায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি চরম অস্থিতিশীলতার এই সময়ে কট্টরপন্থি ক্ষমতা কেন্দ্রগুলোর, যার মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সমর্থক গোষ্ঠীও রয়েছে, এমন একজন প্রার্থীর প্রতি পছন্দের ইঙ্গিত দেয়, যিনি ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
বিশেষত, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের প্রথম দিনেই এক মারাত্মক বিমান হামলায় আলী খামেনিই নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাকে সর্বোচ্চ নেতা বানানো হয়।
সময়ের আলো/আআ