বিশ্বের অনেক শহরের মতো রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে সবশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, শহরটির বাতাসের মান জনস্বাস্থ্যের জন্য মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাতসকালে ঢাকার স্কোর ৭৩। এই স্কোর অনুযায়ী, বায়ুর মান মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। এ সময় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ২৪তম।
একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৮৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। এ ছাড়া, ১৬০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর, ১৫৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, ১৩১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরের স্কোর ১২৫।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন।
তাদের মতে, এসব উৎস থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে বায়ুর মানে স্থায়ী উন্নতি আনা সম্ভব নয়।
তাই সাময়িক স্বস্তিতে সন্তুষ্ট না থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
উল্লেখ্য, আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সময়ের আলো/মহু