রংপুরের পীরগঞ্জে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিয়ে করার চেষ্টার অপরাধে জুবায়ের রহমান জয় নামে এক যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামাণিক জানান, উপজেলার মাঝখুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা জুবায়ের রহমান জয় কোশামন্ডলপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে সোমবার সকালে ওই ছাত্রীর বাড়িতে অবস্থান নেন। মেয়েটির বয়স বিয়ের আইনি বয়সের চেয়ে কম হওয়ায় বিকেলে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে (এফিডেভিট করে) তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এরপর রাতে কনেপক্ষের বাড়িতে ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল।
গোপন সূত্রে এই বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। পুলিশ দেখে বিয়েবাড়ির আমেজ থমকে যায় এবং প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ের সব আয়োজন বন্ধ করে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বর জুবায়ের রহমান জয়সহ রুহুল আমিন নামে আরও এক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার বিকেলে আটকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী, নাবালিকাকে বিয়ে করার চেষ্টার অপরাধে প্রধান অভিযুক্ত জুবায়ের রহমানকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও অতিরিক্ত মেয়াদের সাজা ভোগ করতে হবে।
এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক অন্য যুবক রুহুল আমিনের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন অপরাধে না জড়ানোর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত জুবায়েরকে আজ বিকেলেই জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার এ বিষয়ে বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন অনুযায়ী।
সময়ের আলো/জোই