টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে খাল-বিল, ছড়া ও নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির আহমদ শাহ পাড়া সড়কটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একই ওয়ার্ডের ওজা পাড়ার মাস্টার আবদুল লতিফ ও আবদুল বারি নামের দুই ব্যক্তির মাটির বসতঘর ভেঙে গেছে। ডলু নদীর পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরদানি পাড়া সড়ক। এছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়ার খাল উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। চুনতি, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান, চরম্বা ও আমিরাবাদসহ আশপাশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের পুরাতন থানা সড়ক, দরবেশহাট ডিসি সড়ক এবং পোস্ট অফিসের দক্ষিণের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কে এলাকার মানুষকে কোমর সমান পানি দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এই জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, বৃদ্ধ ও রোগীদের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টিতে আমার ইউনিয়নের সর্দানী পাড়ার ডলু নদীর ভাঙন অংশ দিয়ে পানি ঢুকছে। ইতোমধ্যে বড়ুয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও হাতিয়ার খাল ভেঙে সিকদার পাড়া প্লাবিত হয়েছে এবং উত্তর হরিনা ওঝা পাড়ার আবদুর বারীর মাটির ঘরটি ভারী বৃষ্টিতে ধসে গেছে।
লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, পানি চলাচলের পথগুলো পুনরুদ্ধার করা না হলে লোহাগাড়া সদরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। পানি নিষ্কাশনের পথে গড়ে ওঠা অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনাগুলো দ্রুত অপসারণ করা জরুরি।
আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমিরাবাদ নতুন বাজার এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া টংকাবতী খালের পানি ঢুকে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি পুটিবিলা, চুনতি ও বড়হাতিয়ারও বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন রয়েছে।
উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বন্যা পরিস্থিতির তথ্য জানাতে অথবা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে পারবেন-
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ নম্বর, উপজেলা প্রশাসন ০১৮৭১০৯৯৬২৩, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা,০১৭৫৫৯৬৬৩৪৪, আইটি টেকনিশিয়ান (আরিফ) ০১৮১২৭৬০৭৮৩। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের মাধ্যমে এলাকায় মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের মাইকিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিয়নভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে। আপাতত প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই