ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক সাংবাদিক কামাল হোসেন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তার মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে পুলিশি প্রহরায় তিনি ত্রিশাল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে এসে মায়ের দাফন-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
একই দিন বিকেল ৪টায় মরহুমার নিজ বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কামাল হোসেনকে পুনরায় পুলিশি পাহারায় ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাংবাদিক কামাল হোসেনের মা খোরশিদা বেগম মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টায় ত্রিশাল কোর্ট ভবন এলাকার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি পাঁচ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সাংবাদিক কামালের ছোট ভাই মমিনুল ইসলাম বলেন, ছেলে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই খোরশিদা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগার পাশাপাশি কারাগারে থাকা ছেলের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতেন। স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তাও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মে ভোররাতে সাংবাদিক কামাল হোসেনকে তার নিজ বাসভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। পরবর্তীতে বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কামাল হোসেন ডেইলি অবজারবার পত্রিকায় কর্মরত। সে ত্রিশাল রিপোর্টাস ক্লাবের সভাপতি।
সময়ের আলো/জোই