বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে সাগরের প্রবল ঢেউয়ে মো. আসাদুল (১৭) নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।
নিখোঁজ আসাদুল আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি গ্রামের সৌদি প্রবাসী মুছা হাওলাদারের ছেলে এবং বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তিনি চলতি বছর মানিকঝুড়ি মোহাম্মদপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল তার মামাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে কনের পক্ষের অতিথি হয়ে তালতলীর ছোটবগী ইউনিয়নের ঠংপাড়া এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে আসাদুল তার বন্ধু জাকারিয়া, আতাউল্লাহ, সাগর ও দুলাভাই শাওন তালুকদারকে সঙ্গে নিয়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যান। একপর্যায়ে তারা পাঁচজন একসঙ্গে সাগরে গোসল করতে নামেন। হঠাৎ সাগরের একটি বিশাল ও প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে সবাই পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং চারজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও আসাদুল সাগরের তীব্র স্রোতে ভেসে যান।
উদ্ধার হওয়া সাগর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমরা পাঁচজন একসঙ্গে সাগরে গোসল করতে নেমেছিলাম। হঠাৎ একটি বড় ঢেউ এসে আমাদের সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা চারজন কোনোমতে বেঁচে ফিরলেও আসাদুলকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি চালিয়েও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আসাদুলের কোনো সন্ধান মেলেনি।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ আছেন।
তালতলী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ আসাদুলকে উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সাগরের পরিস্থিতি ও স্রোতের কারণে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয়রা যৌথভাবে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মেধাবী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আসাদুলের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এখন চরম শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সৈকতের তীরে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত আসাদুলকে খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই