বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র এখন চরম বৈরী। ১২ থেকে ১৮ ফুট উচ্চতার ঢেউয়ের পাশাপাশি ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযান সমুদ্রে না পাঠানোর জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সোমবার (৭ জুলাই) বিসিজি স্টেশন পাথরঘাটা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সারতাজ স্বাক্ষরিত এক জরুরি সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা আনুমানিক ১২–১৮ ফুটের মধ্যে ওঠানামা করছে। একইসঙ্গে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সমুদ্রে চলাচলের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযান মাছ ধরা, বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সমুদ্রে পাঠানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রে গেলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে, ফলে উদ্ধারকারী সদস্যদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিরূপ আবহাওয়া আরও ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সকল জেলে, ট্রলার ও নৌযানের মালিক, ঘাট কমিটি, বোট মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি এ সতর্কবার্তাটি দ্রুত সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জেলেদের জীবন আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোস্ট গার্ড ও আবহাওয়া অধিদফতরের নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো ট্রলার সমুদ্রে না পাঠানোর জন্য আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি। সামান্য লাভের আশায় যেন কারও প্রাণ ঝুঁকিতে না পড়ে আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’
সমুদ্র উত্তাল থাকায় ইতোমধ্যে পাথরঘাটাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে জেলেরা নিরাপদে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।
সময়ের আলো/মহু