ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকা ফের তলিয়ে গেছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একটানা ভারী বর্ষণে নগরীর নিচু এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া দফতর। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিত চৌধুরী মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সময়ের আলোকে বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। চার সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। পাহাড় ধসের সতর্কতাও বহাল আছে।’
এদিকে, সোমবার রাতেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সড়ক হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে গেছে। মঙ্গলবার সকালে লোকজন কোমর পানিতে পার হয়েছেন বিভিন্ন সড়ক। বড় বড় সড়কে বন্ধ হয়ে গেছে বাস চলাচল। বাড়তি ভাড়া দিয়ে রিকশায় করে চলাচল করছে লোকজন। এতে সকালে অফিসগামী লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন দুর্ভোগে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিভিন্ন স্কুল কলেজে পরীক্ষা, ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। আবার কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অব্যাহত রাখায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
একটি স্কুলের শিক্ষক নাসরিন রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে নিজ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিয়েছিলাম। পথে কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি। পরে চড়া দামে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিললেও, সিএনবি সড়কে নামিয়ে দেয়। পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় বেশি দূর যেতে রাজি হয়নি। পরে রিকশায় করে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়েছি।’
নগরীর মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সোমবার রাতের বৃষ্টিতে ষোলশহর, মুরাদপুরের নিচু এলাকা ডুবে যায়। মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে এই এলাকার সব সড়কে এখন বুক সমান পানি। লোকজন চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।’
মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর কাতালগঞ্জ, বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। চকবাজার, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, প্রবর্তক মোড়, জিইসি মোড়ের নিচু এলাকায় কোথাও কোমর, কোথাও বুক সমান পানি।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি : সময়ের আলো
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকায় জলজট এড়াতে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন।
সোমবার বিকেলে নগরীতে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা না হওয়া এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মেয়র। একদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার নগরীর অধিকাংশ নিচু এলাকা ডুবে যায়। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়রের বক্তব্য নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।